সাদা অ্যাপ্রোনের হাতছানিঃ যেভাবে পার হবে মেডিকেল ভর্তিযুদ্ধের বৈতরণি

চোখের সামনে সাদা অ্যাপ্রোনের হাতছানি, কিন্তু মনে প্রচুর শঙ্কা? জানতে চাও কীভাবে পার হবে মেডিকেল ভর্তিযুদ্ধের বৈতরণী?আমাদের আজকের ব্লগটি তাহলে তোমারই জন্য।

তোমরা যারা আমার এই লেখাটা পড়ছ ,ধরেই নিতে পারি তোমরা মেডিকেল ভর্তিযুদ্ধের শক্ত প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছ। প্রথমেই নিজেদেরকে বড়সড় একটা সাব্বাশ’ বলে নাও।

কারণ তোমরা ছোটবেলায় স্কুল পরীক্ষায় লেখা সেই জীবনের লক্ষ্য রচনার কথা, বাবামায়ের স্বপ্ন অথবা সম্পূর্ণ তোমার নিজের passion এর কথাই বল না কেন,তা সত্যি করার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছ। শুধুমাত্র এক ঘণ্টার একটা ছোট্ট পরীক্ষার অপেক্ষা ।

এটা আপনি কী বললেন আপু! এত প্রতিযোগিতামূলক একটা পরীক্ষা,যার জন্য আমাদের এত চিন্তা,তা শুধুই একটা ছোট্ট পরীক্ষা?

দুই বছর আগে আমিও যখন তোমাদের মত ছিলাম ,তখন আমারও ঠিক এমনটাই মনে হত।মনে হত ,আমি কি চান্স পাব?এত student পরীক্ষা দিচ্ছে,সারা দিন-রাত একাকার করে সবাই  পড়ছে,আমি কি পারব তাদের সাথে? এই স্বপ্ন কি আদৌ সত্যি হবে?

কিন্তু এখন বুঝি যে যতগুলো সময় এসব কথা চিন্তা করে কাটিয়েছি,তা স্রেফ সময়ের অপচয় ছিল। তোমাদের যেন এই আফসোস কখনই না করতে হয়, এজন্যই আমরা Tickright team আছি তোমাদের পাশে।

এক কথায়  admission test এর আগে আমরা যেই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতাম, যেসব প্রশ্নের উত্তর কোথাও পেতাম না, না পাওয়া যেসব রিসোর্সের প্রয়োজন বোধ করতাম, সেগুলোকে তোমাদের কাছে just one click away করে তুলতেই Tickright এর পথচলা।

কথা না বাড়িয়ে চলো জেনে নেই Medical Admission Test এ আবেদন করার খুঁটিনাটি নিয়ে।

২০১৯-২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী আবেদনের যোগ্যতা

SSC ও HSC পরীক্ষার্থীদের জন্য

২০২০ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে তোমাকে SSC ও HSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। দুটি পরীক্ষা মিলিয়ে কমপক্ষে জিপিএ ৯ থাকতে হবে। এই জিপিএ জিনিসটা নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মনে কিছু ভুল ধারণা থাকে। যেমন-

Biology main subject না হলে কি আমি পরীক্ষায় বসতে পারব না? Biology তে A প্লাস না পেলে কি আমার নাম্বার কমে যাবে?

এসব প্রশ্ন মাথায় থাকলে এখনি ঝেড়ে ফেলো । HSC অথবা সমমানের পরীক্ষায় Biology পড়াটাই তোমার আবেদনের যোগ্যতা, তা হোক সে আবশ্যিক বিষয় অথবা ঐচ্ছিক । কিন্তু এখানে একটা কথা আছে । HSC তে Biology বিষয়টিতে তোমার প্রাপ্ত জিপিএ অবশ্যই ৩.৫ বা তার বেশি হতে হবে।

আর Biology তে A প্লাস না পেয়েও যদি তোমার জিপিএ ৫.০০ –ই থাকে,তাহলে তোমার প্রাপ্ত নম্বরে কোন হেরফেরই হবেনা।

2nd Timer যারা

তাদের প্রাপ্ত নাম্বার থেকে ৫ মার্কস কাটা যাবে। ভয় পেওনা কিন্তু আবার! 2nd time পরীক্ষা দিয়েও শুভ মহাজন ভাইয়াকে মেডিকেলের সম্মিলিত রেজাল্টে ২য় হতে দেখেছি।

যারা ইতিমধ্যেই কোন সরকারি মেডিকেল অথবা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, তাদের ৭.৫ নাম্বার বাদ পড়বে। তোমরা অলরেডি অনেক বেশি জানো, তাই চিন্তার কিছু নেই।

ইংরেজি মাধ্যম ও বিদেশি পরীক্ষার্থীদের জন্য

তোমাদের একটা বাড়তি কাজ করতে হবে, চিকিৎসা শিক্ষার মহাপরিচালকের কাছ থেকে Equivalent certificate সংগ্রহ করার পর তোমরা আবেদন করতে পারবে। তোমাদের result conversion এর পদ্ধতিটাও আলাদা। ইংরেজিতেই বলি-

For O-level

  • Grade A in the best 5 subjects will be considered as GPA 5 after conversion.
  • You must complete your O-Levels in the 2017-18 academic year to apply for MCAT 2020.

Equivalence or Grade conversion is as follows:
A*/A=5.0, B=4.0, C=3.5, D=3.0               

For A-level

  • You must complete your A-Levels in the 2019-20 academic year to apply for MCAT 2020.
  • Having Physics, Chemistry, and Biology in your A-Level curriculum is mandatory.
  • You must have a minimum of 3 B’s. However, if your O-Level scores are equivalent to GPA 5, then you are good to go even if your average of 3 subjects is equal to B.
  • Minimum C grade is required in A level biology.
  • 60% marks of the additional subject will be added to the GPA calculation. In that case, if you have 4 subjects in your A-level, you can apply if you have a minimum of 4 C’s or 3 C’s and 1B or equivalent.

Finally, you can have your results converted from DGHS, Mohakhali.

এবার আসি পরীক্ষার নাম্বার বণ্টনে

এস এস সি ও এইচ এস সি ‘র ফলাফলঃনম্বর
HSC-তে প্রাপ্ত জিপিএ× ২৫১২৫
SSC-তে প্রাপ্ত জিপিএ × ১৫৭৫
সর্বমোট২০০

MCQ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

SubjectNumber
পদার্থবিদ্যা২০
রসায়নবিদ্যা২৫
জীববিজ্ঞান৩০
ইংরেজি১৫
সাধারণ জ্ঞান*১০
সর্বমোট১০০

*বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে ৬ নম্বর এবং আন্তর্জাতিক থেকে ৪ নম্বর।

কোন সাবজেক্টের জন্য কোন বই পড়বো? কতক্ষণ সময় দিব প্রতি সাবজেক্টে? সাধারণ জ্ঞান কেমন প্রশ্ন আসে? মেডিকেল এর ইংরেজি কি খুব কঠিন? এত প্রশ্ন! উত্তর পেতে পড়ে ফেলো মেডিকেল অ্যাডমিশন সিরিজের অন্য ব্লগগুলো

কখন হবে পরীক্ষা?

সাধারণত অক্টোবরের প্রথমেই অনুষ্ঠিত হয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা । কিন্ত করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে ।

 এসব খুঁটিনাটি হয়ত তোমাদের অনেকেরই জানা, কিন্তু এসব তথ্যের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ দুটো কথা আছে যা তোমাদের হয়তো অনেকেই বলবেনা।

সহজ কথাটি যায় না জানা সহজে

প্রথমত, তোমাকে হতে হবে আত্মবিশ্বাসী।
দ্বিতীয়ত, প্রস্তুতি হতে হবে সঠিক উপায়ে।

আপাতদৃষ্টিতে অতিসাধারণ এই দুটি কথা না জানার অথবা না মানতে পারার কারণেই কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে । শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি ! যেমন ধর, তুমি জানো যে মেডিকেলে একটা আসনের জন্য লড়ে প্রচুর শিক্ষার্থী ।

২০১৯-২০ সেশনে দেশের ৩৬ টি সরকারি মেডিকেলের ৪০৬৮ টি আসনের জন্য আবেদন পড়েছিল প্রায় ৭০,০০০। অর্থাৎ, একটি আসনের জন্য লড়েছিল ১৭ জন!

সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে ভিতিকর, কিন্ত তোমাকে যদি কেউ ছোট্ট একটা জিনিস জানাতো, তাহলে তোমার ভয় অনেকটাই কমে আসতো, আত্মবিশ্বাস ও বেড়ে যেতো বহুগুণ।

সবাই কিন্তু preparation নিয়ে আসে না

এই সত্তর হাজার এর মধ্যে অনেকেই থাকে, যারা কোন প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষা দিতে আসে। তারা হয়ত পুরোটা সময় ইঞ্জিনিয়ারিং ,বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোথাও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই পরীক্ষাটা তোমার কাছে যত কঠিন ,তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন তাদের জন্য ।

আমরা কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?

এরপর যখন তোমরা প্রস্ততি নিতে শুরু করবে হাজারটা চিন্তা ঘোরাফেরা করবে মাথায়।

শুধু টেক্সট বই পড়লেই কি হবে? বাজারের সব গাইড কি মুখস্ত করে ফেলতে হবে? কোন কোচিং সবচেয়ে ভালো? কিভাবে পড়লে মনে থাকবে পড়া?

এরকম আরও অনেক চিন্তার উৎপাতে তোমার প্রধান যে কাজ অর্থাৎ পড়া ,সেটাই  ঠিকমত হবেনা। এসব সমস্যায় তোমার পাশে থাকতেই মূলত Tickright এর আবির্ভাব।

এবার জেনে নেই কীভাবে তুমি পাশে পাবে Tickright কে।

Custom-design Test

এখানে তুমি পাবে বিশাল প্রশ্নব্যাংক থেকে তোমার পছন্দমত অধ্যায়ের উপর  customized model test দেওয়ার সুযোগ এবং প্রতিটি উত্তরের  যথাযথ বিশ্লেষণ ।তাছাড়া বিগত বছরের প্রশ্নগুলোও পাবে অনুশীলনের জন্য ।

নিজেকে যাচাই করার সুযোগ

Tickright এর Real time analytics তোমাকে তোমার প্রস্ততির গভীরতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি দেবে টপ স্কোরারদের সাথে নিজেকে যাচাই করার সুযোগ।

Proper Guidelines

আর আমাদের ব্লগ তো আছেই! তথ্যবহুল এসব ব্লগ থেকে পাবে সঠিক উপায়ে প্রস্ততি নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনা। এক কথায় ,তোমার প্রস্তুতিকে নিখুঁত ও তোমার পরিশ্রমকে সার্থক করে তোলার জন্যই আমাদের সকল প্রচেষ্টা ।

ইতিকথা

আমি আমার লেখার একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। ভর্তি পরীক্ষার জন্য জানা দরকার এমন মৌলিক বিষয়গুলোকে তুলে ধরাই মুলত ছিল এই লেখাটার উদ্দেশ্য । কিন্তু আমি জানি , লেখা শেষ হলেও তোমাদের মনের অগণিত প্রশ্ন অবশ্যই হয়নি শেষ। সব প্রশ্ন নিঃসংকোচে করতে পার আমাদের । যেকোনো জিজ্ঞাসাতেই পাশে পাবে আমাদের।

আজ তবে এটুকুই। জীববিজ্ঞানের প্রাণিবিদ্যা অর্থাৎ Zoology অংশের হরেক রকম প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আবার হাজির হব পরের ব্লগে। Tickright এর page এ চোখ রাখতে তাই ভুলোনা কিন্তু!