HSC পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা- ২০২০ এ অসাধ্য সাধন

যেকোনো মুহূর্তে শুরু হয়ে যেতে পারে HSC পরীক্ষা ২০২০। তুমি যদি পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে থাকো তাহলে এই অনিশ্চিত সময়ের প্রস্তুতি হিসেবে তোমার জন্যেই কিছু সমাধান।

HSC পরীক্ষা আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রমের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড পরীক্ষা এ কথা সবার এ জানা; বরং পাড়া-প্রতিবেশী সবাই পারলে হামলে পড়ে পরীক্ষার্থীদের উপর।

হুট করে শেষ হয়ে যাওয়া কলেজ লাইফের পর এমন পাহাড় সমান প্রত্যাশার চাপ দেখে এসময় কম বেশি সবার মধ্যেই হতাশা কাজ করে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হলে ব্যবহারিক, গণিত ইত্যাদি নিয়ে থাকে বাড়তি চিন্তা। কিন্তু এবার তোমরা যারা ২০২০ সালের পরীক্ষার্থী তাদের পরিস্থিতি সবচেয়ে আলাদা।

প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শুরুতে HSC পরীক্ষা শুরু হয়। ব্যতিক্রম ঘটল এবার, যখন সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরীক্ষা না থাকলে কত ভাল হতো এটা ভেবে আমরা খুশি হই, কিন্তু ৪ মাস আগে যে পরীক্ষা হবার কথা তা এখন হবে কিনা তার অনিশ্চয়তা যে আরও যন্ত্রণাদায়ক! 

অবস্থা যাই হোক, কোনও নিশ্চিত ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত তোমাদের শুনতে হচ্ছে “পড়তে থাকো!” “প্রস্তুত থাকো!” ঘাড়ের উপর আরও আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার চিন্তা।

এমন অবস্থায় তুমি যদি পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে থাকো, তাহলে তোমার জন্যেই কিছু সমাধান নিয়ে এলাম যা তোমাকে কিছুটা হলেও চিন্তামুক্ত করবে।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC: কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখব?

বাংলা এবং ইংরেজিটা দেখে নাও, ঝুঁকি থাকে এখানেই

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজে বিজ্ঞানের বিষয়গুলি আয়ত্ত করতে গিয়ে এবং ব্যবহারিক সহ নানা চাপে বাংলা এবং ইংরেজি বিষয় দুটি সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে থাকে। অথচ, আমাদের অভিজ্ঞতায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই বিষয় দুটিতেই খারাপ করে বসে।

বানিয়ে লিখে ফেলব এই ধারণা থেকে পড়া হয় না বাংলা বইয়ের খুঁটিনাটি। তাই এখন সময় করে বাংলা বই এর জ্ঞানমূলক টপিকগুলো পড়ে নাও। অনুশীলন করতে চাইলে MCQ এর জন্য বিশাল ভাণ্ডার নিয়ে আমরা, tickright, আছি তোমার পাশে . নিয়মিত চর্চা করলে বাংলায় মিস হবে না এ প্লাস।

বাংলা ও ইংরেজিতে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে লেখার পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নির্দিষ্ট টপিক ধরে প্রতিদিন এই দুই বিষয়ে লেখার অভ্যাস করা উচিত, যা পরবর্তীতে কাজে লাগবে admission এও।

ম্যাথ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিঃ নির্ভুল হোক হিসাব

HSC এর ম্যাথ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, এমনকি ICT তেও সৃজনশীল অংশের গ ও ঘ নং প্রশ্নে বড় অংশ জুড়ে প্রয়োজন হয় গাণিতিক হিসাবের। এজন্য এই বিষয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক টপিকগুলো নির্ভুলভাবে সমাধান করতে পারলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় পরীক্ষায়।

কোনও টপিক বুঝতে সমস্যা হলে সাহায্য নিতে পারো Khan Academy এর। এই বিষয়গুলোর MCQ-তেও অনেক ম্যাথ থাকে যা কম সময়ে solve করতে হয়। দ্রুত এমসিকিউর ম্যাথ solve করতে না পারায় বিপদে পরে অনেকেই।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারো Customized Tests এর মাধমে বিষয়ভিত্তিক এমসিকিউর প্রশ্ন তুমি নিজেই ঠিক করে solve করতে পারবে এবং দেখতে পারবে তোমার দুর্বলতা কোথায়।

সাইন্স এর সাবজেক্টগুলো নিয়ে preparation কিভাবে নিবে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ে ফেলো এই সিরিজের অন্যান্য ব্লগগুলো

অধ্যায়ভিত্তিক রিভিশন এ বেছে নাও বই ছাড়াও অন্য মাধ্যম

অনেকদিন ধরে একই বই পড়তে পড়তে তোমাদের একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। এই একঘেয়েমি দূর করার উপায়?

বায়োলজি-তে বৈজ্ঞানিক নাম বা কোনও কিছুর ধাপ, কেমিস্ট্রির জৈবযৌগ এবং বিক্রিয়া, কিংবা ম্যাথ এবং ফিজিক্স এর চ্যাপ্টার ভিত্তিক সূত্র গুলো লিখে ফেলো ছকে এবং ফ্লোচার্টে।

টপিক রিভিশন এর জন্য OnnoRokom Pathshala কিংবা Khan Academy এর YouTube ভিডিও দেখতে পারো। কোনও কিছু পড়া শেষে ঐ বিষয়ে নিজেকে মূল্যায়ন করতে ভুলো না! এতে তোমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।

জোর দিতে হবে MCQ-তে

বোর্ড পরীক্ষার সৃজনশীল এর জন্য বইয়ের সব পড়া না লাগলেও MCQ-তে দরকার হয় অনেক খুঁটিনাটি তথ্য। কেউ যদি ভেবে থাকো বন্ধুর সাহায্যে solve করবো, জেনে নিও পরীক্ষায় MCQ এর সেট সবার জন্যে ভিন্ন থাকে। একটি MCQ ভুল করার জন্য তোমার পুরো ফলাফল বদলে যেতে পারে।

এতো বড় রিস্কে যাতে তোমাকে পড়তে না হয় এজন্যই tickright-এ আছে বিষয়ভিত্তিক MCQ পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ। পড়া তো অনেকবার হয়েছে, এখন তা যেন ভুলে না যাও সেজন্যে করতে থাকো অনুশীলন।

রুটিনে ভাগ করে নাও দিনগুলো

কোয়ারেনটাইনে Aim হারিয়ে দিন গুনতে গুনতে আমাদের সবারই দৈনন্দিন রুটিন গোলমেলে হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যি কথা হল, কম পড়াশুনা হলেও রুটিন অনুসারে পড়লে হতাশা কমে যাবে এবং মন ভাল থাকবে।

এই দু’মাস কিভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায়,সেটা মাথায় রেখে একটা স্টাডি-প্ল্যান বানিয়ে নেওয়া খুবই দরকারি,আর প্রতিদিন কতটুকু কি কি পড়বে সেই অনুযায়ী রুটিনও। স্টাডি-প্ল্যান বানানোর সময় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেঃ

  • পুরো সিলেবাস যেন অন্তত একবার পড়া শেষ হয়
  • অন্তত একবার রিভিশন দেওয়া শেষ হয়
  • কঠিন টপিকগুলো যেন বাড়তি সময় নিয়ে আবার পড়া যায়
  • প্রতি বিষয়ে যেন অন্তত ২টা মডেল টেস্ট দিতে পারো ঘড়ি ধরে
  • আগের বছরগুলোর প্রশ্নপত্র যেন সমাধান করতে পারো

এই কাজগুলো করার জন্য এখন দিনে কতটুকু পড়া লাগবে,সেই অনুযায়ী রুটিন বানিয়ে নাও।

এখন রুটিন কিভাবে করবো?

রুটিন মূলত ২টা ধরণের আছেঃ

  • সময়বণ্টন নির্ভর অর্থাৎ দিনের কখন কোন কাজ করবে
  • টু-ডু-লিস্ট অর্থাৎ কী কী কাজ করবে ঠিক করে নিয়ে সুবিধামতো সময়ে করে নেওয়া।

সাধারণত; যারা বেশি অলস তাদের জন্য সময়নির্ভর রুটিন ভালো আর যারা কাজ করতে দেরী করে না তাদের জন্য টু-ডু-লিস্ট ভালো।

Confused? সমস্যা নেই! তোমার জন্য আমরাই রুটিনে তৈরি করে দিয়েছি। ডাউনলোড করে নাও এখনি।

নিজেই করো নিজের মূল্যায়ন

যেকোনো পরীক্ষার আগে আমরা সাধারণত মডেল টেস্ট দেই নিজেকে যাচাই করার জন্য। করোনা যেহেতু সেই সুযোগ রাখে নি, তাই নিজেই বইয়ের শেষের অনুশীলনী গুলি solve করে ফেলো।

তোমার কাছে থাকা সব প্রশ্ন শেষ হয়ে গেলে বিভিন্ন গাইড বই থেকে থেকে আগের বছরের প্রশ্নসহ বিষয়ভিত্তিক প্রচুর MCQ solve করে নিজের মূল্যায়ন করতে পারো। গাইড বই নেই? তাহলে tickright এ লগইন করো। পেয়ে যাবে আগের বছরের সব প্রশ্ন এবং নতুন নতুন মডেল টেস্ট।

ভাবছো এক কথা আর কতবার?

আশ্বাস দিচ্ছি সত্যিই তোমার দক্ষতা বেড়ে যাবে আর তুমি মজাও পাবে!

চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দাও নিজেকে, নিজেকে পুরস্কৃত করো

“আর কতদিন এভাবে পড়াশুনা করা যায়!” একবার হলেও এটা তোমার মনে হয়েছে নিশ্চয়ই। আমরা সবসময় একটা প্রাপ্তির দিকে চোখ রেখে কিছু করতে বেশি উৎসাহিত হই। তাই কিছু একটা পড়ার আগে বা কোনও টেস্ট solve করার আগে ঠিক করে নাও নিজের জন্য ছোট একটা পুরস্কার।

“একটা চ্যাপ্টার শেষ করতে পারলে আমি একটা চকলেট খাবো”
“৫ টা টেস্ট solve করতে পারলে একটা মুভি দেখে ফেলবো”
এরকম reward system ঠিক করলে তুমি নিজেই পড়ালেখা করার উৎসাহ পাবে।

মনোযোগ কিভাবো দিবো

মনোযোগ বাড়ানোর জন্য এই পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারেঃ

  • সকাল আর সন্ধ্যা রাখবে অধ্যয়নের জন্য আর যেসব সময়ে মনোযোগ কম থাকে,সেইসব সময় রাখবে অনুশীলনের জন্য।
  • নিজের ওপর অযাচিত চাপ দেবে না। দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়াই লাগবে এমন কথা নেই,তোমার প্রয়োজন আর সুবিধা অনুযায়ী পড়বে।
  • পড়ার সময় ডিভাইস অন্য রুমে রাখবে,ডিভাইসের জন্য বরাদ্দ রাখবে আলাদা সময়।
  • পড়ার মাঝে আধা ঘণ্টা পরপর ছোট্ট বিরতি দিতে পারো,একটু বারান্দা থেকে হেঁটে আসলে বা পানি খেয়ে আসলে।

দেখে নাও অন্যদের তুলনায় কোথায় আছো  

তোমার সাথে যারা এ যাত্রায় আছে, তাদের সঙ্গে তোমার দক্ষতা তুলনা করা গেলে কিন্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবে কোথায় তোমার ঘাটতি। কিন্তু বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলে বলবে যে কিচ্ছু পড়া হয়নি। আবার ঠিকই পরীক্ষার ছক্কা হাঁকাবে!

মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা তুমি tickright এ পাবে। যেকোনো পরীক্ষার পর Analytics Tool ব্যবহার করে তুমি অন্য পরীক্ষার্থীদের তুলনায় কোন অবস্থানে আছো এবং কোথায় তোমার উন্নতি করা দরকার তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেখতে পারবে।

ভর্তি পরীক্ষার দিকেও চোখ রাখো

ব্যাপারটা কঠিন হলেও সময় সল্পতার কারণে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও তোমাকে নিতে হবে এখনি। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিজ্ঞান ইউনিটে পরীক্ষা দিতে চাইলে পড়ার বিষয়গুলো হবে একইরকম।

কিন্তু তুমি যদি ঘ ইউনিট বা IBA তে পরীক্ষা দিতে চাও তাহলে ব্যাপারটা হবে ভিন্ন। এসব পরীক্ষায় কি কি লাগে, কি কি বিষয় মূল্যায়ন হয় এবং কি কি বিষয় পড়ানো হয় তা জানতে ঘুরে আসতে পারো আমাদের Admission Blog Series এ। Admission সম্পর্কে তোমার যত প্রশ্ন আছে, সবগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা।

অপেক্ষার অবসান হবেই

আমাদের সবার স্বাভাবিক অবস্থাই এখন থমকে গিয়েছে। কিন্তু অপেক্ষার অবসান একদিন হবেই। পরীক্ষার্থী হিসেবে তাই নিজেদের শরীর ও মন সুস্থ ও উৎফুল্ল রাখা তোমাদের জন্য অনেক জরুরি। এর মধ্যেই নিয়মিত চর্চা করো যাতে আকস্মিক পরীক্ষার ঘোষণায় তৈরি থাকতে পারো।

শুভকামনা তোমাদের জন্যে! কোনও প্রশ্ন থাকলে তা আমাকে জানাও নির্দ্বিধায়।