ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘ ইউনিট: চান্স পাওয়া কোন ব্যাপার নাকি এবং অন্যান্য

দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটে চান্স পাওয়া কিন্তু মোটেও কঠিন কিছু নয়। ঘ ইউনিট সম্পর্কিত সকল জিজ্ঞাসা দূর করতে তোমাদের পাশে রয়েছে Tickright।

ভর্তি পরীক্ষার সময় যখন হঠাৎ করেই সাইন্স ছেড়ে ঘ ইউনিটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি তখন কতজনের কতরকম ভ্রূ বাঁকানো যে দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই। কেউ কেউ রীতিমত মুখের উপর বলেই বসত – এটায় চান্স পাওয়া ব্যাপার নাকি? আমি লাস্ট দশ দিন প্রেপ নিয়েই ফাটায়ে দিব।

এসব শুনবার পর আমি নিজেকেই প্রশ্ন করতাম- আসলেই কি এত সহজ? খামোকা এত কষ্ট করছি কেন? অবশ্য কিছুদিন পরেই তাদের কথা কিভাবে জানি ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে যায়, সেটা এতদিনেও ভেবে বের করতে পারিনি। এসব গল্প না হয় আরেকদিন হবে, Tickright এর পরের কোন ব্লগেই আবার আলাপ হবে এসব নিয়ে। এবার একটু সিরিয়াস হওয়া যাক।

বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট

ঘ ইউনিট কিংবা বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট – কারো কাছে স্বপ্নের আবার কারো কাছে তথাকথিত পাবলিকে চান্স পেয়ে মুখরক্ষার শেষ সুযোগ। ক্লাস নাইনে উঠবার পর খুব সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ই নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়বার সুযোগ পায়। সমাজের চাপ, পাশের বাসার আন্টি কিংবা পরিবারের কড়া শাসনের কারণে নিজের ভালো লাগার বিষয় আর মুখ ফুটে বলা হয় না।

এখন তো একটা অলিখিত নিয়ম ই হয়ে গেছে – পড়াশুনায় ভালো হলে সাইন্স, মোটামুটি হলে কমার্স আর মানবিক- তা নিয়ে আর না ই বলি। মনের ভেতর লালন করা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ হচ্ছে ঘ ইউনিট। যেখানে সঠিক উপায়ে প্রস্তুতি নিয়ে ভালো ফলাফল করে খুব সহজেই একজন পড়তে পারে তার পছন্দের বিষয়ে।

আর যারা হয়তো অন্যান্য বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি, তারাও ভর্তিপরীক্ষার শেষ সময়টুকু  একটু যত্ন সহকারে ও উপযুক্ত নিয়মে পড়াশুনা করে পৌঁছে যেতে পারে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে!

আমি জানি, তোমাদের মনে নানান রকম প্রশ্ন আছে এই ইউনিট নিয়ে।

সত্যিই কি অল্প পড়েই চান্স পাওয়া যায়? সাধারণ জ্ঞানের এত তথ্য কিভাবে মনে রাখব? ঘ ইউনিট মানেই কি ভবিষ্যত কি কেবল বিসিএস?

আরো নানা প্রশ্ন নিশ্চয়ই উঁকি দিচ্ছে মনে, তাই না? তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এসেছে আমরা। তাহলে আর দেরি কেন? তোমার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নাও ডি ইউনিটের ব্লগে! আর হ্যাঁ, সাধারণ জ্ঞান মনে রাখতে যতই কষ্ট হোক, আমার কথাগুলো মনে রাখতে একদম কষ্ট হবে না, প্রমিজ!

তবে এবার চলো, জেনে নেই ঘ ইউনিটের খুঁটিনাটি সব।

ঘ ইউনিটঃ আবেদনের যোগ্যতা, পরীক্ষার বিষয়াবলী ও মানবণ্টন

ঘ ইউনিটের সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি বাঁধাধরা কোন বিভাগের কোন শিক্ষার্থীর জন্য নয়। যেকোন বিভাগের শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে নিজের পছন্দের বিভাগে যেতে পারবে।

সহজ করে যদি বলি, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ করে নিতে পারবে। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কেউ বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় এবং মানবিক বিভাগের  কেউ বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পড়বার সুযোগ করে নিতে পারে।

একদিকে এটি যেমন সুবিধা, ঠিক একই কারণে ঘ ইউনিটে আবেদনকারী সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

গত বছর ঘ ইউনিটের ১৫৬০ সিটের বিপরীতে আবেদন করেছিল ৯৭,৪৭৯ জন। একটি সিটের বিপরীতে ৬২ জন!

ভাইয়া এত মানুষ! চান্স পাব কিভাবে?

চান্স পেতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতিতে তুমি যাতে এগিয়ে থাকো সেজন্য Tickright রয়েছে তোমার সঙ্গে। ঘ ইউনিটের জন্যে প্রস্তুতির সঠিক দিক-নির্দেশনা যেমন পাবে তেমনি প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্যে পাবে প্রচুর মডেল টেস্ট।

তাই দেরি না করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করে ফেল Tickright এই বিশেষায়িত মডেল টেস্টে। আর ঘ ইউনিট সম্পর্কে আরো জানতে চলে যাও Tickright এর ব্লগ সেকশনে

ঘ ইউনিটে ভর্তির আবেদনের জন্য যোগ্যতা

বিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ এবং দুটি পরীক্ষায় ই আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ থাকতে হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে দুটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩.৫ থাকতে হবে।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.০ এবং আলাদাভাবে ৩.০ থাকতে হবে।

এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের কোন বিষয়ের পরীক্ষায় ৩.০ বা বি গ্রেড এর নিচে পেলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

IGCSE/O-Level-এ অন্তত ৫টি বিষয়ে এবং IAL/GCE A-Level এ ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ও লেভেল এবং এ লেভেলের ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে কমপক্ষে বি গ্রেড এবং ৩টি বিষয়ে কমপক্ষে সি গ্রেড পেতে হবে।

বিদেশি সমমানের ডিপ্লোমাধারীরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবে।

ঘ ইউনিটের বিষয়াবলী ও সিট সংখ্যা

আগেই বলেছি, ঘ ইউনিটে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে তাই ঘ ইউনিটের বিষয়গুলোতেও রয়েছে সব থেকে বেশি বৈচিত্র্য। এবার তবে দেখা নেয়া যাক, কোন বিষয়ে কোন বিভাগের জন্য কতটি সিট বরাদ্দ রয়েছে –

SubjectScienceBusinessHumanitiesTotal
Economics708078
Political Science80200100
International Relations455050
Sociology355040
Mass Media
& Journalism
258033
Public Administration3525060
Anthropology205025
Peace &
Conflict Studies
2010030
Gender Studies205025
Development Studies105015
Population Sciences130013
Television & Film155020
Criminology3010040
Communication Disorder200020
Printing & Publications155020
Japanese3510045
Bangla257032
English205025
Arabic300030
Persian Language2010030
Urdu3020050
Sanskrit2010030
Pali & Buddhist Studies1812030
History237030
Philosophy255030
Islamic Studies2515040
Islamic History
& Culture
2515040
Information Technology
& Library Management
155020
Theater & Performance73010
Music2010030
Dance1010020
Language Science2015035
World Religion & Culture355040
Management100515
Accounting &
Informations System
100515
Marketing100515
Finance100515
Banking & Insurance5027
Management
Informations System
4015
International Business4026
Tourism & Hospitality
Management
3025
Organization Strategy
& Leadership
150520
Geography &
Environment
020020
Psychology030030
Math0055
Statistics001616
Law4322065
Social Welfare &
Research
123015
Health Economics300030
Education & Research4020060
Disaster Management255030
English for Speakers
Of Other Languages
510015
BA Honors in French
Language and Culture
55010
BA Honors in Chinese
Language and Culture
510015
BA Honors in Japanese
Language and Culture
55010
Total1097410531560
DHAKA UNIVERSITY D UNIT SUBJECT LIST AND NO. OF SEATS

আশা করি সবসময় যা পড়তে চেয়েছ তা অবশ্যই উপরিউক্ত তালিকায় রয়েছে। তবে তোমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হোক!

ঘ ইউনিটঃ মানবণ্টন

গত বছরের বাকি ইউনিটগুলোর মত ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় ও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন MCQ এর পাশাপাশি লিখিত বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। চলো, নম্বর বণ্টন জেনে নেই –

ঘ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষার মোট নম্বর – ২০০। এই ২০০ নম্বরের মধ্যে ১২০ নম্বর থাকবে তোমরা যে পরীক্ষা দেবে সেটার ওপর আর বাকি ৮০ থাকবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ (চতুর্থ বিষয়সহ) এর ওপর।

তোমাদেরকে ৮০ নম্বরের হিসানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৬ দিয়ে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ১০ দিয়ে গুণ করে ৮০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে। ধরো তোমার দুটি পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫ আছে, তাহলে তোমার প্রাপ্ত নম্বর ৮০-এর মধ্যে {(৫*৬) + (৫*১০)}=৮০, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ৮০ নম্বর।

১২০ নম্বরের ৭৫ নম্বর বরাদ্দ থাকবে MCQ এর জন্য এবং বাকি ৪৫ নম্বর থাকবে লিখিত অংশের জন্যে। এমসিকিউ প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্যে পাবে ১.২৫ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৩০ নম্বর কাটা যাবে। কোন প্রশ্নে উত্তর না দিলে সেক্ষেত্রে কোন নম্বর কাটা যাবে না।

MCQ এমসিকিউ পরীক্ষার নম্বর বণ্টনঃ

বিষয়প্রশ্ন সংখ্যানম্বর
বাংলা/ Advanced English১৬*১.২৫২০
ইংরেজি১৬*১.২৫২০
সাধারণ জ্ঞান২৮*১.২৫৩৫
মোট৬০৭৫

*Advanced English শুধু এ লেভেল পাশ করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

লিখিত পরীক্ষার নম্বর বণ্টনঃ

বিষয়নম্বর
বাংলা/ Advanced English*১৫
ইংরেজি১৫
সাধারণ জ্ঞান (বিশ্লেষণধর্মী)১৫
মোট৪৫

*Advanced English শুধু A-Level পাশ করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ঘ ইউনিটের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ে ফেলো Tickright এর অন্যান্য ব্লগগুলো

পাশ নম্বর ও মেধাতালিকা

ঘ ইউনিটে মেধাতালিকায় স্থান পেতে এমসিকিউ পরীক্ষায় বাংলা/Advanced English ও ইংরেজিতে ন্যূনতম ৬ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞানে ন্যূনতম ১২ নম্বর সহ সর্বমোট ৩০ নম্বর পেতে হবে।

লিখিত পরীক্ষায় পেতে হবে ন্যূনতম ১২ নম্বর। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা মিলিয়ে সর্বমোট পাশ নম্বর ৪৮। দেখতেই পাচ্ছো, কোন বিষয়েই অবহেলা করা যাবে না। পাশ করে মেধাতালিকায় স্থান পেতে হলে সব বিষয়েই মনোযোগ দিতে হবে।

ঘ ইউনিটের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের জন্যে আলাদা মেধাতালিকা হয়ে থাকে। তাই তুমি যে বিভাগের ই হয়ে থাকো, ভালো ফলাফল করে তুমি পৌঁছে যেতে পারো তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে।

পরীক্ষার সময়সূচীঃ

যদিও এবার করোনার কারণে হয়তো অনেক পরিবর্তন আসবে সময়ে। তবে গত বছর ঘ ইউনিটের পরীক্ষা সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আবেদন যেহেতু অনলাইনে হয়ে থাকে তাই পরবর্তী যেকোন ঘোষণা সম্পর্কে অবগত হতে পত্রিকা কিংবা অনলাইনে চোখ রাখতে পারো।

বাদামের খোসায় যদি বলি – In a nutshell

আমি নিজে যখন ভর্তিপরীক্ষার্থী ছিলাম তখন আমার মনেও নানারকম প্রশ্ন ছিল। সেসব নিয়ে তোমাদের যাতে মাথা না ঘামাতে হয় সেকারণেই এই লেখাটি লেখা। আশা করি, এটি পড়ার মাধ্যমে তোমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পেরেছি।

আসলে এই বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে ভর্তিপরীক্ষায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ভর্তি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি আজ তো জেনে ফেললে, এখন চাইলেই শুরু করে দিতে পারো তোমার স্বপ্নযাত্রার প্রস্তুতি।

আর হ্যাঁ, এরপরেও যদি প্রশ্ন থাকে ভেতরে, জিজ্ঞাসা করে ফেল। আমরা সবসময় তোমার পাশে আছি।

ঘ ইউনিটের বিষয়গুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে তোমাদেরকে আরও বিস্তারিত জানাতে সামনে আরো ব্লগ আসছে। বেশি কথা বলে ফেলছি?

তাহলে চলো, এবার বাংলা নিয়ে বিস্তারিত জেনে আসি।