ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ ইউনিট ভর্তি প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটে ভর্তির প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী পড়বে, কীভাবে পড়বে – সবকিছুর সমাধান নিয়ে Tickright থাকছে তোমাদের সঙ্গে।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী হয়ে থাকলে কিছু সাধারণ সমস্যার সাথে তুমি অবশ্যই পরিচিত – ভাল টিউটরের অভাব, কোচিং সেন্টার বা মডেল টেস্ট দেওয়ার জায়গা খুঁজে না পাওয়া থেকে শুরু করে মানুষের বাঁকা কথা – সবই দেখা হয়ে গেছে তোমার।

সেই সাথে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কনফিউশন তো থাকেই – জিপিএর হিসাব, প্রশ্নের ধরণ, কোন বিষয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত – এসব বিষয়ে একেকজনের কাছে একেক ব্যাখ্যা শুনতে শুনতে তোমার বিরক্তি ধরে যাওয়াই স্বাভাবিক। আর এসব সমস্যার one-stop solution হিসেবেই Tickright.com এর আবির্ভাব।

গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, প্রশ্নের ধরণ ও মানবণ্টন থেকে শুরু করে কোন বিষয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে সেই ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা, সেই সাথে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে কাস্টমাইজড মডেল টেস্ট দেওয়ার ব্যবস্থা – সবকিছু একইসাথে নিয়ে তোমার প্রস্তুতির কাজকে সহজ করে দিতে তোমার পাশে দাঁড়িয়েছে Tickright

প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার আগে দেখে আসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ অর্থাৎ গ ইউনিটে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদনের যোগ্যতা এবং প্রশ্নের ধরণ।

গ ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্যতা, পরীক্ষার বিষয় ও মানবণ্টনঃ

ক্লাস নাইনে হোক বা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে হোক, ব্যবসায় শিক্ষা নেওয়ার পর সবাইকেই কোনো না কোনো খোঁটা শুনতে হয়েছে।

সেই সাথে এই সাবধানবাণীও শুনতে হয়েছে যে সাইন্সের শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেলসহ অনেক ডিসিপ্লিনে যেতে পারলেও বিজনেস স্টাডিজের শিক্ষার্থীদের এমন কোনো বিশেষ ডিসিপ্লিন নেই।

তার উপর সব বিশ্ববিদ্যালয়েই বিজনেস স্টাডিজের সিট কম। সেই সাথে সাইন্সের অনেক শিক্ষার্থীই পরবর্তীতে বিজনেস স্টাডিজে চলে আসে। তাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেশি।

হ্যাঁ, সিট কম হওয়ার ব্যাপারটা সত্যি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদে সিট আছে ১৭৫০টি, কলা অনুষদে সিট আছে ২৩৭৮ টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে সিট আছে ১২৫০টি।

এই ১২৫০টি সিটের জন্য ২০১৯-২০ সেশনে আবেদন পড়েছিল ২৯০৫৬টি !

সত্যি বলতে, এতে কারোই সন্দেহ থাকার কথা না যে সাধারণভাবে ব্যবসায় শিক্ষার একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত জায়গা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিট। এই ১২৫০ জনের একজন হয়ে, ফাইনান্স, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং বা গ ইউনিটের মোট ৯টি বিষয়ের কোনো একটি বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন কমবেশি ব্যবসায় শিক্ষার সব শিক্ষার্থীই দেখে।

তাহলে এখন কথা না বাড়িয়ে দেখে ফেলা যাক ২০১৯-২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী গ ইউনিটে ভর্তির যোগ্যতা।

বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা

৪র্থ বিষয়সহ এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ ৭.৫ বা তার উপরে। এসএসসি এবং এইচএসসি তে আলাদা আলাদা ভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫ পেতে হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এইচএইসসি, বা সমমানের (ডিপ্লোমা-ইন-বিজনেস স্টাডিজ, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এই যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করত পারবেন।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ডিপ্লোমা-ইন-বিজনেস স্টাডিজ, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট থেকে আসা প্রার্থীদের অবশ্যই হিসাববিজ্ঞান বিষয়টি থাকতে হবে এবং তাতে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ (গ্রেড – বি) থাকতে হবে।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা

GCE O-Level-এ অন্তত ৫টি বিষয়ে এবং A-Level এ ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। A-Level এ Business Studies, Accounting, Economics বা Mathematics-এর মধ্যে যেকোনো একটা অবশ্যই থাকতে হবে। ও লেভেল এবং এ লেভেলের ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে কমপক্ষে বি গ্রেড এবং ৩টি বিষয়ে কমপক্ষে সি গ্রেড পেতে হবে।

বিদেশ থেকে ডিপ্লোমা বা অন্যান্য সার্টিফিকেট প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা

বিদেশ থেকে ডিপ্লোমা বা অন্যান্য সার্টিফিকেট প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা গ ইউনিটে আবেদন করার আগে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে আবেদন করবে এবং অনুষদ কর্তৃক সমতা নিরূপণের পর অনুমতি পেলেই আবেদন করতে পারবে।

সমতা নিরূপণের ফি বাবদ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে (২০১৯-২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী ১০০০ টাকা)। O level, A level এবং Cambridge পরীক্ষার প্রাপ্ত লেটার গ্রেডের পয়েন্ট হবে A=5.00, B=4.00 এবং C=3.50।

গত বছর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে – প্রচলিত এমসিকিউ পরীক্ষার সাথে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত হয়েছে।

গ ইউনিটেও ব্যতিক্রম হয়নি। এবার গ ইউনিটের নম্বর বণ্টন দেখে আসা যাক।

সাধারণ নম্বর বণ্টন

গ ইউনিটের ভর্তির জন্য মোট নম্বর ২০০। এই ২০০-এর মধ্যে ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রে আর বাকি ৮০ নম্বর নেওয়া হবে এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমানের ফলাফল থেকে (৪র্থ বিষয়সহ)।

এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৬ দিয়ে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ১০ দিয়ে গুণ করে ৮০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে। কারো দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫ থাকলে তার প্রাপ্ত নম্বর ৮০-এর মধ্যে {(৫*৬) + (৫*১০)}=৮০, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ৮০ নম্বর।

১২০ নম্বরের পরীক্ষা হবে ৭৫ নম্বরের এমসিকিউ ও ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা মিলিয়ে। ৭৫ নম্বরের এমসিকিউর জন্য সময় থাকবে ৪০ মিনিট এবং ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার সময় থাকবে ৫০ মিনিট। ৭৫ নম্বরের এমসিকিউর জন্য ১.২৫ নম্বর করে মোট ৬০টি এমসিকিউ থাকবে।

এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে negative marking। প্রতি ৫টি ভুল উত্তরের জন্য একটি করে সঠিক উত্তরের সমান নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কর্তিত নম্বরের পরিমাণ ০.২৫।

বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রের পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

MCQ

অংশপ্রশ্ন সংখ্যা * প্রতি প্রশ্নের মার্কপ্রতি অংশের মার্ক
বাংলা(১২*১.২৫)১৫
ইংরেজি(১২*১.২৫)১৫
ব্যবস্থাপনা(১২*১.২৫)১৫
হিসাববিজ্ঞান(১২*১.২৫)১৫
ফাইনান্স/ব্যাংকিং/মার্কেটিং(১২*১.২৫)১৫
মোটঃ ৭৫

লিখিত পরীক্ষা

অংশপ্রশ্ন সংখ্যা * প্রতি প্রশ্নের মার্কপ্রতি অংশের মার্ক
বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ৫*১
ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ৫*১
বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ৫*১
Précis writing৫*১
সংক্ষিপ্ত রচনা (বাংলা)৫*১
৫টি আবশ্যিক বিষয় থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর৫*৪২০
মোট = ৪৫

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রের পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

MCQ

SectionMarks
English (compulsory)20
Advanced English (compulsory)15
Business Studies*20
Accounting*20
Economics*20
Total: 75

(* = students have to answer any two from the three asterisk-marked subjects)

Written Test

SectionNo. of Ques. * Mark per Ques.Marks per Section
Essay Writing(1*5)5
Precis Writing(1*5)5
Letter Writing(1*5)5
Concept Definition(1*5)5
Short questions from compulsory subjects(5*5)25

পাস ও মেধাতালিকা সংক্রান্ত নিয়ম –

ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া ১২৫০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। তবে মেধাতালিকায় আসার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে হলে এমসিকিউ অংশে ইংরেজিতে কমপক্ষে ৫ এবং সম্পূর্ণ এমসিকিউ অংশে কমপক্ষে মোট ৩০ পেতে হবে।

এছাড়া লিখিত অংশে কমপক্ষে মোট ১২ এবং লিখিত ও MCQ মিলিয়ে কমপক্ষে মোট ৪৮ নম্বর পেতে হবে। এই শর্ত কোটাসহ সকল পরীক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

পরীক্ষা কখন হয়?

সাধারণত ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে গ ইউনিটের পরীক্ষা হয় সবার প্রথমে। এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণত আগস্ট মাসে আবেদন করার সময় দেওয়া হয় এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে পরীক্ষা হয়।

২০১৯-২০ সেশনে ৫-২৭ আগস্ট অনলাইন আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল এবং পরীক্ষা হয়েছিল ১৩ সেপ্টেম্বর।

Tickright কীভাবে তোমার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে?

শুরুতে যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, সেসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে সঠিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে Tickright হতে পারে তোমার আদর্শ সঙ্গী।

অনুশীলন

Tickright এ আছে তোমার নিজের মডেল টেস্ট নিজেই কাস্টমাইজ করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ। বিশাল প্রশ্নব্যাংকের সম্ভার থেকে নিজের প্রয়োজনমত টেস্ট ডিজাইন করে বারবার অনুশীলন করে তোমার প্রস্তুতিকে নিখুঁত করতে এই প্ল্যাটফর্মটি এনে তোমার পাশে থাকছে Tickright

কেমন করছে অন্যরা? অন্যদের তুলনায় তোমার প্রস্তুতি কেমন?

Tickright এর Real-time Analytics তোমাকে দেবে নিজের ফলাফল মূল্যায়ন এবং সেই সাথে টপ স্কোরারদের তুলনায় তোমার নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ।

নিজের প্রয়োজনমত প্রশ্ন ডিজাইন করা এবং বিশাল ভার্চুয়াল প্রশ্নব্যাংক

পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন থেকে অনুশীলন করার পাশাপাশি টিকরাইট কর্তৃক প্রণীত প্রশ্ন সমাধান করতে পারো। সেই সাথে নিজের প্রয়োজনমত প্রশ্ন ডিজাইন করে সময়ে সময়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ তো থাকছেই।

শেষ কথা

গ ইউনিটে ভর্তির প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতেই আজকের এই ব্লগ লেখা। কারণ ভর্তির যোগ্যতা, প্রশ্নের ধরণ ও মানবণ্টন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে পরবর্তীতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় যা অনেকটাই পেছনে ঠেলে দেয়।

তাই প্রস্তুতি শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও পরিষ্কার ধারণা তোমাকে দিতেই এই লেখাটি লেখা। আজ যেহেতু ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কে জানলে, প্রস্তুতি শুরু করে দিতে পারো যেকোনো সময়ই।

তাই আগামী দিন আমরা আসছি গ ইউনিটের সবচেয়ে ভয়-পাওয়া বিষয় ইংরেজি নিয়ে। ইংরেজি সহজে এবং মজার সাথে পড়ার টিপসের পাশাপাশি বিভিন্ন অমূলক ভয় দূর করতে চাইলে চোখ রাখো আমাদের পরবর্তী ব্লগে।

আরো জিজ্ঞাসা থাকলে জিজ্ঞেস করে ফেল। আমরা আছি।

Cover Art by Helena Layzu