মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি কি পড়বো,কিভাবে পড়বো, কতটুকু পড়বো?-বায়োলজি,ফিজিক্স,কেমিস্ট্রি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বায়োলজি,ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি বিষয়ে যা যা জানলে সহজ ও প্রায় নির্ভুলভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা- একদিকে যেমন স্বপ্ন-পূরনের প্রথম ধাপ, অন্যদিকে যেন এক রণক্ষেত্র।তোমাদের মধ্যে অনেকেই এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকো এই চিন্তায় যে কিভাবে কোন বিষয় পড়বে,কোথা থেকে শুরু করবে,কোন বিষয়ে কতটুকু সময় ব্যয় করবে। এই চিন্তা যদি তোমার মধ্যেও এসে থাকে তবে নিচের অংশটি পড়ার অনুরোধ করবো!

মানবণ্টন

মেডিকেল এডমিশন টেস্টে মোট ৫টা বিষয়ের উপর ১০০ নাম্বারের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
 

  • বায়োলজি ৩০
  •  কেমিস্ট্রি ২৫
  •  ফিজিক্স ২০
  •  ইংরেজি ১৫
  •  সাধারণ জ্ঞান ১০

প্রতিটা প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ মার্ক ১। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ মার্ক কর্তন করা হয়।
বায়োলজি,কেমিস্ট্রি,ফিজিক্স,ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান-প্রতিটা বিষয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ন। তবে এই অংশে কেবল বায়োলজি, কেমস্ট্রি ও ফিজিক্স সম্পর্কিত বিভ্রাট নিয়ে আলোচনা করবো। ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে অন্য একটি পর্বে আলোচনা করা হবে।

বায়োলজি

বায়োলজি পূর্বে কতটুকু পড়া হয়েছে, কিরকম মার্ক পেয়েছ সব ভুলে যেতে হবে।কারণ মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সব প্রথম থেকে পড়তে হবে।প্রতিটি চ্যাপ্টার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা যেমন প্রয়োজন তেমনি খুঁটিনাটি খুব ভালো করে লক্ষ্য করে পড়াও প্রয়োজন।
 উদ্ভিদবিজ্ঞানে সাধারণত আবুল হাসান এবং প্রাণিবিজ্ঞানে গাজী আজমল স্যারের বই থেকে বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে। তাই এই দুটো বই ভর্তিপরীক্ষার জন্য ভালো করে পড়ানো হয়।এছাড়াও সহায়ক হিসেবে অনেক বইয়ের নাম উঠে আসে।তবে সেসব বইয়ের তথ্যের জন্য বিগত প্রশ্ন গুলো পড়াই বেশি ভালো।
 বায়োলজির প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে কিছু নির্দিষ্ট অংশ থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। এইকারনে সবার আগে এই অংশগুলো জোর দিয়ে পড়া ভালো।তাই বলে বাকি অংশগুলো এড়িয়ে গেলে চলবে না।অবশ্যই সেগুলো পড়তে হবে।বায়োলজির ক্ষেত্রে আমার মনে হয় বেশিরভাগ স্টুডেন্ট যে জিনিসটা এড়িয়ে যেতে চায় সেটা হলো উদাহরণ।এত এত উদাহরণ মনে রাখা কি মানুষের পক্ষে সম্ভব নাকি?আফসোসের ব্যাপার এইটাই যে ভর্তিপরীক্ষার জন্য উদাহরণ গুলোই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।অবশ্য সংজ্ঞাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অনেকক্ষেত্রেই সহজ করে দেয়।ছক,বৈশিষ্ট্যাবলি,শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য,মানবদেহ সম্পর্কিত বিষয়াবলি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়লে প্রশ্ন অনেকটাই সহজ মনে হবে।দ্বিতীয় পত্রে মানবদেহ সবগুলো চ্যাপ্টারই অনেক বেশি জরুরি।তাই এই চ্যাপ্টারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়তে হবে।


ফিজিক্স

ফিজিক্সের কঠিন কঠিন সূত্র, জিলাপির প্যাঁচের মত গাণিতিক সমস্যা নিয়ে যখন চিন্তায় চিন্তায় মাথা গরম তখন একটুর স্বস্তির খবর এই যে এডমিশনে ফিজিক্সের প্রশ্ন তুলনামূলক প্যাঁচহীন হয়। অর্থাৎ গাণিতিক সমস্যাগুলো এমন থাকে যা সহজেই করা যায় এবং আরো স্বস্তির খবর এই যে পাঠ্যবইয়ের ভিতর থেকেই আসে সাধারণত।গাণিতিক সমস্যা সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি থাকেও না।বিগত সালের প্রশ্ন গুলো সলভ করলেই বুঝবে প্রতিবছর গাণিতিক সমস্যা সম্পর্কিত প্রশ্নের সংখ্যা খুবই কম এবং তাও বইয়ের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়।গাণিতিক সমস্যা ব্যতীত বাকি প্রশ্নগুলোও সাধারণত সরাসরি বইয়ের ভিতর থেকে আসে।


যেকোন ধ্রুবকরাশির মান, সূত্র, নীতি থেকে সরাসরি প্রশ্নও আসে।ক্লিয়ার কনসেপ্ট ফিজিক্স পড়ার ক্ষেত্রে সময় ও পরিশ্রম উভয়-ই বাঁচাবে এবং পরীক্ষার ফিজিক্স অংশের প্রায় নির্ভুল উত্তর করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
 এখন আসি বইয়ের ব্যাপারে। বই পড়ার ব্যাপারে এত গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোন বই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা বলিনি।ফিজিক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র উভয় ক্ষেত্রেই সাধারনত ডঃ আমির হোসেন খান,প্রফেসর মোহাম্মদ ইসহাক ও  ডঃ মোঃ নজরুল ইসলাম রচিত বই দুইটি পড়ানো হয়।উভয় বইয়ের প্রতি চ্যাপ্টারের শেষে যথেষ্ট সংখ্যক এমসিকিউ আছে। অবশ্যই বইয়ের এই এমসিকিউগুলো সলভ করতে হবে।এখান থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন কমন পড়ে।আবার চ্যাপ্টার শেষে যে সার-সংক্ষেপ শিরোনামে অনেক তথ্য থাকে সেগুলোও পড়া প্রয়োজন।তাহলেই ফিজিক্স প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়।
আমার মতে যেসব চ্যাপ্টার সম্পর্কে এখনো সন্দেহ আছে সেগুলো সম্পর্কে নিঃসন্দিহান হওয়া প্রয়োজন।তারপর বাকি অংশগুলোর প্রতি নজর দেওয়া উচিৎ।এতে শুধু মেডিকেল নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।

কেমিস্ট্রি

কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে কলেজগুলোতে যে বই-ই ব্যবহার করা হোক না কেন এডমিশনের ক্ষেত্রে ডঃ সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও হারাধন নাগ স্যারের বইকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।এছাড়াও বেশ কিছু রেফারেন্স বই থাকে যেখানকার প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো গাইড বা কোচিং সেন্টার গুলো থেকেই সরবরাহ করা হয়।তবে বিগত বছরগুলোর প্রশ্নেই অনেক তথ্য থাকে।তাই সেগুলো সলভ করলেও অনেকখানি পড়া হয়ে যায়।
কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে যে দুটো চ্যাপ্টার মোটামুটি সবার কাছেই বিরক্তির কারণ ছিল- কর্মমুখী রসায়ন ও অর্থনৈতিক রসায়ন। যারা এই চ্যাপ্টার দুটোকে পূর্বে তেমন গুরুত্ব দাওনি (আমার মত) তাদের জন্য
দুঃসংবাদ। কারন মেডিকেল এডমিশনে এই চ্যাপ্টার দুইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর সাথে বিভিন্ন, ছক, বৈশিষ্ট্য, ধ্রুবক, pH এর মান,সূত্র,নীতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

কেমিস্ট্রি দুই পত্রের ক্ষেত্রেই প্রথম চ্যাপ্টার অর্থাৎ পরিবেশ রসায়ন ও ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার মনে হওঁয় সবচেয়ে অবহেলিত।তবে এদুটো চ্যাপ্টারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পরিবেশ রসায়ন পড়ার ক্ষেত্রে আমি কয়েকটা কাজ করতাম।পরিবেশ রসায়নের কিছু অংশ ফিজিক্স প্রথম পত্রের শেষ চ্যাপ্টার আদর্শ গ্যাসের সাথে কিছুটা মিল সম্পন্ন। তাই এই চ্যাপ্টার পড়ার সময় একই সাথে ফিজিক্সের অংশ টুকু রিভিশন দিলে দুই বইয়ের তথ্যের ভিন্নতা সহজেই চোখে পড়বে।উত্তর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।এই ছোট কাজটুকু পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশ্ন সমাধান করতে বেশ সাহায্য করেছিল।
 

এখন আসি রসায়ন বিষয়ক সর্বাধিক জিজ্ঞাসাকৃত প্রশ্নে। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে যে জৈব যৌগের এত এত বিক্রিয়া মনে রাখতে গিয়ে যখন নিজের নাম ভুলে যাওয়ার মত অবস্থা তখন কিভাবে সব কিছু মনে রাখবো?তাই বলে এত বিক্রিয়ার মাঝে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে এই চ্যাপ্টার ভুলেও বাদ দেওয়া যাবে না। এই কারণে এই ক্ষেত্রে সবার আগে যেসব বিক্রিয়ার স্পেসিফিক নাম আছে,বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিক্রিয়া,শনাক্তকারী বিক্রিয়া সেগুলো আগে পড়তে হবে।তবে এই কথাটা কেবল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সবার বুঝার সুবিধার্থে একটা উদাহরণ দেই-

অ্যাক্রোলিন পরীক্ষা দ্বারা কোনটি শনাক্ত করা হয়?
ক)ইথানল, খ)ইথানয়িক এসিড, গ)গ্লিসারিন ঘ)গ্লুকোজ   [মেডিকেল এডমিশন ২০১৭-১৮]
 

তবে বিক্রিয়া বাদে বাকি অংশ গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই পড়তে হবে।কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রেও খুঁটিনাটি তথ্য ভালো করে লক্ষ্য করে পড়তে হবে।কেমিস্ট্রিতেও বেশ কিছু গাণিতিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগে।এ সম্পর্কে নিচে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার গাণিতিক সমস্যা শিরোনামের অংশে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার গাণিতিক সমস্যা

ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি অংশ দুটোয় কিছু গাণিতিক সমস্যা প্রশ্নে সংযোজন করা হয়।দীর্ঘশ্বাস ফেলার আগেই স্বস্তির সংবাদ দেই- মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় কঠিন বা সময়-সাপেক্ষ কোন গাণিতিক সমস্যা আসে না। তাহলে এত এত প্রশ্ন-উদাহরণের মধ্যে কোন গুলোকে প্রাধান্য দিব এই প্রশ্ন যে এতক্ষণে চলে এসেছে তা বেশ বুঝতে পারছি কারন আমার মনেও এমন প্রশ্ন এসেছিল। একটা কথা এক্ষেত্রে মাথায় রাখা প্রয়োজন যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাটা হয় ১০০ মার্কের যার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকে মাত্র ৬০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটা প্রশ্নের জন্য সময় মাত্র ৩৬ সেকেন্ড।তাহলে এমন কোন অংক সাধারণত আসে না যেটা করতে ১ মিনিটের অধিক সময় লাগে।প্রত্যেকটা অংকই সাধারণত বই থেকে আসে। যদি বইয়ের চ্যাপ্টারের গাণিতিক সমস্যা এবং এমসিকিউর গাণিতিক সমস্যা গুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে তাহলে এই গাণিতিক অংশটা সম্পর্কে চিন্তার কোন কারণ নেই।

আবার যাদের মনে করো তেমন ভালো ধারণা নেই তাদের যে এখনি অংক করা শুরু করতে হবে ব্যাপারটা কিন্তু তা না।ঐ যে বলেছিলাম বইয়ের টপিক সম্পর্কে ভালো ধারণার কথা, ঐটা এখন অনেক সাহায্য করবে গাণিতিক সমস্যা গুলো ও তাদের সলভ করার শর্টকাট বোঝার জন্য।
এখানে কয়েকটা উদাহরণ তুলে দিচ্ছি বুঝার সুবিদার্থে।

#একটি চাকার ভর ১০কেজি এবং চক্রগতির ব্যাসার্ধ ০.৫ মি হলে জড়তার ভ্রামক কত?
ক)50 kgm2 খ)50kgm গ)2.5 kgm2 ঘ)2.5 kgm. [মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০১১-১২]
[সোর্সঃনিউটনিয়ান বলবিদ্যার অনুশীলনীর এমসিকিউ]
#0.005M H2SO4 দ্রবণের pH কত?
ক)4 খ)5 গ)3 ঘ)2 [মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০১৪-১৫]
 

এই উদাহরণ গুলো এখানে তুলে ধরার কারণ হলো দুটো বিষয়ে তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ- প্রথমত গাণিতিক সমস্যা গুলো বই থেকেই সাধারণত আসে। হয়তো চ্যাপ্টারের অংশ বা অনুশীলনীর এমসিকিউ এর অংশ। দ্বিতীয়ত এই ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে সাংখ্যিক মানের পাশাপাশি অবশ্যই এককের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।নয়তো উত্তর ভুল হতে পারে।
     

এডমিশন কোচিং সেন্টার গুলোতে এই প্রশ্নের শর্টকাট নিয়ম শেখানো হয়।আমার নিজস্ব মত এই যে যদি শর্টকাট নিয়ম শিখতে বা বুঝতে কষ্ট হয় তাহলে সে পথে না যাওয়াই ভালো। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর এক্ষেত্রে এই গাণিতিক প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়া উত্তম।

পরিশেষ

ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য সর্বশেষ সংস্করণের বই পড়াটা অধিক ফলপ্রসূ।তবে অনেক সময়ই দেখা যায় বই কিনে পড়া শুরু করার পর নতুন আরেকটা সংস্করণ বের হয় যেখানে সাধারণত তেমন কোনো পরিবর্তন থাকে না।অনেকেই তখন জিজ্ঞেস করে নতুন বই কিনবে কিনা।কারণ সবার ক্ষেত্রে মাসে মাসে নতুন বই কেনা সম্ভব না।এ ক্ষেত্রে আমার মত হলো-নতুন বই কেনার প্রয়োজন নাই।তবে অবশ্যই নতুন বইয়ের নতুন তথ্য যোগাড় করে আগের বইতে লিখে রাখতে হবে।এমনকি অন্যান্য বইয়ের যেসব তথ্য পড়া প্রয়োজন সেগুলোও নিজের বইয়ে লিখে রাখলে অত্যন্ত লাভবান হবে। কারণ তখন ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের জন্য তোমাদের ভিন্ন ভিন্ন বই খোঁজালাগবে না।আবার পরীক্ষার আগের দিন পড়ার ক্ষেত্রেও বারবার এক বই থেকে অন্য বইয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে মাথা গরম করা লাগবে না।    
 

এখন আসি বইয়ের এমসিকিউ এর ব্যাপারে।অবশ্যই বইয়ের অনুশীলনীর সব এমসিকিউ সলভ করতে হবে এবং বারবার রিভাইস করতে হবে।সবচেয়ে জরুরি হল বিগত অন্তত ১০ বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সলভ করতে হবে।এতে করে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারবে যা তোমাদের প্রস্তুতিকে মজবুত করবে।
 বিষয়ভিত্তিক বেশ কিছু গাইড পাওয়া যায়।এখান থেকে এমসিকিউ সলভ করতে হবে। এতে লাভ কি হবে?এইটাই যে তোমরা নিজেদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবে এবং সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
 এমসিকিউ ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নামক যুদ্ধের হাতিয়ার এমসিকিউই।তাই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য মূল বইয়ের পাশাপাশি প্রচুর এমসিকিউ সলভ করতে হবে।এক্ষেত্রে আন্তন শেকভ এর একটি উক্তি উল্লেখ করতে চাই-

“Knowledge is of no value unless you put it into practice.”

 সবশেষে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বলতে চাই।মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বিষয় অনুযায়ী নাম্বার বণ্টন ভিন্ন হলেও কোন বিষয়কেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। মনে রাখা প্রয়োজন প্রতিটা ভুল উত্তরের জন্য .২৫ নাম্বার কাঁটা যায় যার কারনে ভর্তি পরীক্ষার ফলেও বিরাট তারতম্য দেখা যায়।আবার এত এত টপিক সমান ভাবে সময় দিয়ে পড়া সম্ভব নয়।এ ব্যাপারে আমি মনে করি যে ‘সমান সময়’ দেওয়া ও ‘সমান গুরুত্ব’ দেওয়া এক বিষয় না।তাই যে বিষয়টা বুঝতে বা পড়তে সময় লাগে সে বিষয়টা একটু বেশি সময় নিয়ে পড়তে হবে।

সব ধরনের ভর্তিপরীক্ষাই একেকটা যুদ্ধের মত।এই যুদ্ধে সফল হতে গেলে যেমন নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করতে হবে তেমনি নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে।সবার সুস্থতা ও সাফল্য কামনা করি।