মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাঃ যুদ্ধজয়ের দশ কৌশল

সামনেই অপেক্ষা করছে মেডিকেল ভর্তি যুদ্ধ ?নিজেকে গড়ে তুলতে চাচ্ছ শক্তিশালী এক যোদ্ধা কিন্তু জানোনা কীভাবে সম্ভব তা?চটজলদি পড়ে ফেলো আমাদের আজকের ব্লগটি আর জেনে নাও যুদ্ধজয়ের দশটি কৌশল!

তোমরা যারা আসন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছ,গত বার বছরের পড়াশোনার সঙ্গে এই সময়কার পড়াশোনার পার্থক্যটা নিশ্চয়ই এর মাঝেই ধরে ফেলেছো।তাই study pattern অথবা reading habitও কিছুটা বদলে ফেলতে হবে এখন।আজ আমি তোমাদের কাজ সহজ করার জন্য এমন দশটি অভ্যাসের কথা বলব,যা মেনে চলতে পারলে দেখবে প্রস্ততির এই সময়টা আসলে ততটাও খারাপ  না! কথা না বাড়িয়ে শুরু করি চলো-

১.আত্মবিশ্বাসী হওঃ

যদি আমাকে  বলা হয় admission time এ যে একটি  অভ্যাস কারও অবশ্যই গড়ে তোলা লাগবে,আমি বলব “নিজের উপর বিশ্বাস রাখা”।আমার কথা পরে মিলিয়ে নিও,এই কঠিন সময়টা পার করার জন্য তোমার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে এই অভ্যাসটা।জানোই তো,বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর।পড়ার টেবিলের সামনের দেয়ালে বেশ বড় করে লিখে  টাঙিয়ে রাখবে-” BELIEVE YOU CAN AND YOU ARE HALFWAY THERE.”দেখবে, বেশ একটা আত্মবিশ্বাস পাবে।তবে মনে রেখো কিন্তু  যে,Be confident but not over confident.আমি যখন তোমাদের মত ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম,তখন পড়তে পড়তে বিরক্ত লাগলে আমি বই খাতা সরিয়ে রেখে চোখ বন্ধ করে ভাবতাম আমার রেজাল্ট দিয়েছে,  বাবা-মা আমার রেজাল্টে খুশি হয়ে আনন্দে কান্না করছে,স্বপ্নের ক্যাম্পাসে সাদা অ্যাপ্রোন গায়ে হাঁটছি আমি।বিশ্বাস করি,ব্যাপারটা সত্যিই খুব কাজে দিত।আর একটা কথা কি,পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।চূড়ান্ত পরীক্ষা ভাল হবে কি হবে না, চান্স পাবে কি পাবে না এই  নিয়ে দুশ্চিন্তা করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।তাই সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাও,পরিশ্রম কর ও নিজের  ওপর বিশ্বাস রাখ- সফল তুমি হবেই।

২.গাইড নয়,জোর দাও টেক্সট বুকেঃ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আশি শতাংশ প্রশ্নই আসে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের টেক্সটবুক গুলো থেকে।এই বইগুলো তোমার যত বেশি আয়ত্তে থাকবে, পরীক্ষায় ভাল করার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে। তাই ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট, রাস্তাঘাটের ব্যানার-পোস্টার অথবা হাতে ধরিয়ে দেওয়া লিফলেটে “শতভাগ কমন!” অথবা “পড়লেই চান্স” এসব চটকদার গাইড বইয়ের বিজ্ঞাপনে মাথা না ঘামিয়ে যতটুকু সময় পাও,টেক্সট বুকে মনোযোগ দেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কোন টেক্সট বই পড়বে তা নিয়ে।যেহেতু উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে একাধিক প্রকাশনীর একাধিক বই থাকে,সব বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া কখনই সম্ভব নয়।তাই এজন্য আমি বলব প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি বই পড়তে এবং ঐ বইটিই বারবার পড়তে।এরপর যদি মনে হয় যে একটা বইয়ের সবকিছু যা  যা পরীক্ষায় আসতে পারে তা  তুমি ভালমত পড়েছ,শুধুমাত্র তখনই তুমি আরেকটা বই পড়বে।এক্ষেত্রে আমি তোমাকে  জুওলজির জন্য গাজী আজমল স্যার, বোটানির জন্য আবুল হাসান স্যার,পদার্থবিজ্ঞানের জন্য ইসহাক স্যার ও রসায়নের জন্য হারাধন নাগের বই পড়তে বলব।আর সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজির জন্য তুমি তোমার পছন্দমত যেকোন বই বেছে নিতে পার,তবে অবশ্যই যেকোন একটি।Tickright এর website এ বিষয়ভিত্তিক আলাদা আলাদা প্রস্তুতি নিয়ে লেখা ব্লগ দুটো যদি তোমার পড়া না থাকে তাহলে চটজলদি পড়ে ফেল।এ ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা পাবে তখন।

তো যা বলছিলাম,এই বইগুলো থেকেই সচরাচর বেশি প্রশ্ন আসে।তাই তোমার পড়ার রুটিনের সিংহভাগ জুড়ে অবশ্যই এই বইগুলোকেই রাখতে হবে।অর্থাৎ তোমার “Main study materials for medical admission test” হবে এই বইগুলোই।

৩.গুরুত্ব দাও সকল বিষয়েঃ

আমরা যখন তোমাদের মত ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম,তখন প্রথম প্রথম আমাদের প্রায় সবারই একটি ভুল ধারণা ছিল।আমরা ভাবতাম,যেহেতু বায়োলজি-কেমিস্ট্রিতে বেশি নম্বর, এগুলো বেশি করে পড়লেই বুঝি হবে।বিশেষ করে সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি তো খুবই কম পড়া হতো।তোমরা কিন্তু ভুলেও এই ভুল কোরো না।প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের যেমন সমান নাম্বার, তেমনি প্রতিটি বিষয়েরই সমান গুরুত্ব। এখানে আমার সাজেশন থাকবে,প্রতিটি বিষয়ে equality নয় বরং equity maintain করে পড়ার জন্য।যেই বিষয়টি অথবা টপিকটি তোমার কঠিন লাগে, সেগুলোর পিছনে তুমি একটু বেশি সময় দাও,কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের প্রস্তুতিতে যেন কোন ঘাটতি না রয়ে যায়,সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে তোমাকে।তুমি না হয় বায়োলজি আর কেমিস্ট্রির জন্য একটু বেশি সময় রাখলে,কিন্তু বাকি তিনটি বিষয়ও অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে তোমাকে।শুধু তাই নয়,প্রতিটি বিষয়ের সব ধরনের টপিক পড়ার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে তোমার।জীববিজ্ঞানের মানবদেহের চ্যাপ্টার গুলো বেশি পড়তে গিয়ে ঘাসফড়িং আর মৌমাছি পড়লে না,ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রির অসংখ্য তথ্য ও উপাত্ত মনে রাখার ভিড়ে ছোট ছোট ম্যাথগুলো ঠিকমত প্র্যাকটিস করা হলো না,ইংরেজিতে appropriate preposition,antonyms- synonyms পড়তে পড়তে voice,transformation প্র্যাকটিস করার কথা ভুলে গেলে,এমন যেন না হয়।এই অভ্যাসটি তাই শুরু থেকেই গড়ে তোলা চাই।

৪.শর্টকাট ব্যবহার করা ও হ্যান্ডনোট তৈরি করাঃ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যেহেতু তথ্য ও উপাত্তমূলক টপিক বেশি পড়তে হয়,ফিজিক্স বা কেমিস্ট্রির ম্যাথ রিলেটেড প্রশ্নগুলো একটু কম অনুশীলন করা হয়। পরীক্ষায় কিন্তু কয়েকটি টাইপের ছোট ছোট ম্যাথই বারবার ঘুরে ফিরে আসে।শর্টকাট মেথড জানা থাকলে  অল্প সময়েই এসব  ম্যাথ রিলেটেড প্রশ্নের  সমাধান করা সম্ভব হয়।অাবার কিছু মনে রাখার জন্য তুমি বিভিন্ন ছন্দ বা mnemonics ব্যবহার করতে পার,যেন অল্প পড়েও তুমি অনেক মনে রাখতে পার।পাশাপাশি তুমি তোমার নিজের মত করে হ্যান্ডনোট তৈরি করতে পার,যেখানে তুমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু টপিক,যেসব তথ্য-উপাত্ত মনে রাখা একটু কঠিন,সেগুলো লিখতে পার যেন পরীক্ষার আগে চোখ বুলিয়ে যেতে পার।সোজা কথায়,যতটুকুই পড় না কেন,পড়তে হবে smartly.

৫.যা চোখে পড়ে বেশি, তা পড়তেও হবে বেশিঃ

যেকোন বইয়ের যেকোন চ্যাপ্টার খুললে হেডলাইনের পরেই কোন জিনিসগুলো চোখে পড়ে বল তো?বোল্ড করা অক্ষরগুলো,যেকোন ছক বা চার্ট আর শেষমেশ অনুশীলনীর প্রশ্নগুলোতে সবাই চোখ বোলায়।There’s a good news for you,প্রশ্নকর্তাবৃন্দেরও এসবের উপরেই বেশি চোখ পড়ে।স্বভাবতই এখান থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়।আমার কথা বিশ্বাস না হলে বিগত বছরের প্রশ্ন মিলিয়ে দেখো,উত্তর পেয়ে যাবে। তাই পড়ার সময় এই জিনিসগুলো যেমন একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে,রিভিশনের সময়ও এসবের পেছনে সময় দিতে হবে বেশি।

৬.চিকিৎসকের চোখে দেখতে শেখোঃ

এই ব্যাপারটি কিন্তু বেশ মজার।তুমি বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখলে বুঝবে যে অনেক প্রশ্নতেই কেমন একটা “Medical science vibe” পাওয়া যায়।যেমন ধর, “ঔষধ শিল্পে কোন রাসায়নিক উপাদান সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়?” অথবা “রঞ্জন রশ্মি কে আবিষ্কার করেছেন?” আমাদের সময়ে যেমন চূড়ান্ত পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে একটিই প্রশ্ন এসেছিল আর সেটা ছিল যক্ষ্মা নিয়ে। পেছনের কারণ জানতে তোমাকে শার্লক হোমস হতে হবে না।সহজেই বোঝা যায়, যেহেতু পরীক্ষার প্রশ্ন প্রনয়নের দায়িত্বে থাকেন চিকিৎসকবৃন্দ,তাই এ ধরনের প্রশ্ন সবসময়ই তাদের পছন্দের তালিকার ওপরে থাকে।তাই এ বিষয়টি এখনই মাথার ভেতরে খুব ভাল করে গেঁথে নাও আর যেকোন বিষয় পড়ার সময় এরকম সব টপিক,যেমন -বিভিন্ন রোগের নাম,চিকিৎসা, ঔষধ সম্পর্কিত তথ্য,চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন পদ্ধতি, বিভিন্ন রোগের সঠিক ইংরেজি বানান একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোল।

৭.পড় নিয়মিত ও রিভিশন দাও বারবারঃ

যেকোন ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রচুর পড়তে হয়,নতুন নতুন অসংখ্য তথ্য -উপাত্ত মনে রাখতে হয়।আমাদের ব্রেইন সেল তো আর সুপারম্যান না যে কোন পড়া একবার দেখলেই চিরকাল মনে থাকবে।তাই একটাই সাজেশন -বারবার পড়ো ও নিয়মিত পড়ো।তোমার দিন -রাত না ঘুমিয়ে পড়াশোনা করার কোন দরকার নেই। তুমি দিনে না হয় ৫ ঘন্টাই পড় কিন্তু প্রতিদিনই যেন এই ৫ ঘন্টা তুমি টেবিলে থাকো,সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তোমার নিজেরই।তুমি ততটুকুই পড় যতটুকু তুমি মনে রাখতে পার,আর সেই জিনিসগুলোতেই বার বার চোখ বোলাতে থাকো।বিশেষ করে সংখ্যাসূচক বিভিন্ন তথ্য যেমন- তাপমাত্রা, pH মান, তারপর বৈজ্ঞানিক নাম, প্রভাবক এসব তথ্য যেগুলো মনে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। তুমি এগুলো মনে রাখার জন্য চার্ট বানিয়ে পড়ার টেবিলের সামনের দেয়ালে লাগিয়ে রাখতে পার যেন বারবার তোমার চোখে পড়ে।তাই সাজেশন একটাই- কম পড়ো, কিন্ত বারবার পড়ো।

৮.যাচাই চলুক বারবারঃ

একটা কথা তুমি আশেপাশের মানুষদের থেকে অনেকবার শুনতে পাবে,”একটা ঘন্টার পরীক্ষায় যে কী হয় কে জানে!” ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কিন্তু আসলেই এটি একটি নির্মম সত্যি যে চূড়ান্ত পরীক্ষার ঐ একটি ঘন্টা আসলেই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।তাই মূল্যবান সেই সময়টার সর্বোত্তম ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এখন থেকেই।আর তার জন্য করনীয় একটাই- বার বার প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দেওয়া।তুমি ছোট্ট একটা চ্যাপ্টার পড়লেও তার উপর পরীক্ষা দাও। মডেল টেস্টের বই,বিগত বছরের প্রশ্ন বারবার সল্ভ করতে থাকো।আর নিশ্চয়ই জানো যে Tickright তোমাদের এই কষ্ট অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে এখানকার customised model test আর real time analytics এর মাধ্যমে। বিশাল প্রশ্নব্যাংক ও তুমি পাবে এখানে।যখনই যে কোন পরীক্ষা দিবে বাসায় বসে,অবশ্যই ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দেবে এবং এক ঘন্টার পরীক্ষার অবশ্যই ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করবে।এই অভ্যাসটি একবার গড়ে তুলতে পারে দেখবে চূড়ান্ত দিনে সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা নিয়ে কোন কষ্টই হবেনা আর।এছাড়া বার বার পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে নিজের ভুল গুলো বুঝতে পারবে,দুর্বলতার জায়গাগুলো ধরতে পারবে।প্রস্ততিও হবে তাই অনেক ভাল।

৯.সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকোঃ 

অন্যান্য সময়ের মত ২০২০ও সাধারণ একটা বছর হলে আমি চোখ বন্ধ করে বলতাম এই ক’মাসের জন্য সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখতে।কিন্তু যেহেতু বর্তমান “New normal” এ পড়াশোনা অনেকটাই অনলাইন নির্ভর, তাই এই সাজেশনটা এখন আসলে দেওয়া যায় না।তাই বলব ‘সীমিত আকারে ‘ ব্যবহারের কথা।তোমার যখন কোন ক্লাস করা লাগবে অথবা exam দেওয়া লাগবে,  তখন তুমি ফোন হাতে নিয়ে শুধু সেই কাজটিই করবে।’একটু নিউজফীডে ঢুঁ মেরে আসি” অথবা “ইন্সটাগ্রামের স্টোরি দেখে আসি” এমনটা করলে নিজেরই বিপদ।কোথা দিয়ে যে সময় কেটে যাবে টেরই পাবেনা! তাছাড়া নানা মানুষের নানা কথা শুনে অনেকে ডিপ্রেশনেও পড়ে যেতে পারে।এক্ষেত্রে ফোনের বদলে নিউজফীড ফিল্টার করে ল্যাপটপে কাজ করা অথবা বাবা,মা কিংবা  বাসার অন্য কারও ফোন ব্যবহার করা কিছুটা less time consuming হতে পারে।মনে রাখবে, সময় যেহেতু খুবই কম,এই অল্প সময়ের 100 percent utilization কিন্তু তোমারই দায়িত্ব। তাহলেই বুঝবে যে তোমার কী করতে হবে!

১০.নিজের যত্ন নাওঃ

এই যে আমার পুরোটা লেখায় কত কত নতুন অভ্যাসের কথা বললাম,কত শত উপদেশ দিলাম!কিন্তু একটা কথা জানো?এই শেষ অভ্যাসটা তোমার মাঝে না থাকলে আগের সব অভ্যাসই সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে। তুমি যদি সুস্থই না থাকো,তুমি যদি ডিপ্রেশনেই ভুগো তাহলে কে দিবে রিভিশন,কে-ই বা বানাবে হ্যান্ডনোট আর কোথা থেকেই বা আসবে  আত্মবিশ্বাস। তাই সবার আগে নিজেকে ভালবাসতে হবে,যত্ন নিতে হবে নিজের।শারীরিক ভাবেও যেমন সুস্থ থাকতে হবে,mental health এর প্রতিও দিতে হবে সমান নজর।সময়টা এখন কেমন তা সবাই জানে,করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধির কথা তাই আলাদা করে বলার কিছু নেই,মেনে চলতেই হবে সেগুলো।সেদিকে আর কথা বাড়ালাম না। ঠিকমত খাওয়া- দাওয়া করবে আর পর্যাপ্ত ঘুমাবে।যতই পড়ার চাপ থাকুক না কেন,অবশ্যই দিন-রাত মিলিয়ে কমপক্ষে ছয় ঘন্টা ঘুমোবে।রাত জেগে -চোখ লাল করে- মাথা গরম করে পড়ার চেয়ে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে উঠে ঠান্ডা মাথায় পড়াশোনা করা অনেক ভাল।এবার আসি আমার আজকের লেখার শেষ ও সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথায়- তোমার মনের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে।যেহেতু এই সময়টায় একে তো মাথার ওপর প্রচুর প্রেশার থাকে,সাথে আবার চান্স পাবো কি পাবনা,এই দুশ্চিন্তা থেকে বেরও হওয়া যায় না।তাই অনেকেই ডিপ্রেশনে পড়ে যায়।তাই ভুলেও এই মন খারাপের ফাঁদে পা দেওয়া যাবেনা।একটা কথা মাথায় রেখো,”জীবনের জন্য পড়াশোনা, পড়াশোনার জন্য জীবন না।” তাই নিজেকে খুব বেশি stressed হতে দিওনা।ভর্তি পরীক্ষা অবশ্যই তোমার জীবনের অতিবগুরুত্বপূর্ণ একটা স্টেশন, কিন্তু ফাইনাল স্টপেজ না।চান্স না পেলে কী হবে তা নিয়ে ভয় না পেশে চান্স পেলে কত ভালো লাগবে সেই কথা চিন্তা কর।দেখবে,তখন সেই কল্পনাকে সত্যি করার জন্য অনেকক্ষণ টেবিলে বসে থাকতেও খারাপ লাগবে না, বোরিং বোরিং পড়া পড়তেও তখন ভালো লাগবে!কোচিং এর একটা পরীক্ষায় কম পাওয়া মানেই তুমি অনেক পিছিয়ে পড়েছ এমন নয় মোটেও।এসব প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় কম পেলে বরং আমার ভালো লাগত। কারণ আমি জানতাম  ভুল একবার শুধরে নিলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় আর কখনো হবে না এই একই ভুল।তাই,Be positive. Try to see the silver lining of every cloud. ধর্মীয় আচার মেনে চলো,সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাও।সবসময় পড়তেই হবে এমন নয়,মাঝে মাঝে না হয় বইটা একটু সরিয়েই রাখলে,নিজের পছন্দের কোন কাজ করলে কিছুক্ষণ,মনটা রিফ্রেশড হলো।তাই, পড়াশোনাও হোক বেশি বেশি,মনটাও থাকুক অনেক ভালো।

আজ তবে  এতটুকুই বলি।প্রার্থণা করি, স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দ নেমে আসুক তোমাদের সবার জীবনে। অনেক অনেক  শুভকামনা রইল!