নতুনের চোখে মেডিকেল প্রাঙ্গনে একদিন

মেডিকেল কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশ ভিন্ন। মেডিকেল জীবন কি আসলেই তেমন যেমনটা সবাই বলে নাকি আছে আরো ভিন্ন কিছু?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স(medical admission result) পাওয়ার পর যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে তা হলো মেডিকেল প্রাঙ্গনে জীবনটা কেমন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে (Sir Salimullah medical College) ভর্তি হওয়ার পর আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার আলোকে এই আর্টিকেল।

একাডেমিক জীবন

প্রথমেই আসি একাডেমিক জীবন নিয়ে। আমাদের শিক্ষকেরা একটা মজার কথা বলেন। ‘মেডিকেল হলো প্রাইমারি স্কুলের মত।“  কেন? কারণ প্রাইমারি স্কুলের মতই এখানে সপ্তাহে ছয়দিন ই ক্লাস থাকে,তাও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত।মাঝে মাঝে আবার পড়াও জিজ্ঞেস করা হয়।কঠোর নিয়মের মাঝে মনে হবে হাইস্কুল পেরিয়ে পুনরায় প্রাইমারি স্কুলে এসে ভর্তি হয়েছ।
একাডেমিক অংশটার দুইটা ভাগ। ক্লাস এবং পরীক্ষা।
ক্লাস
প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বিষয় মাত্র তিনটা-এনাটমি, ফিজিওলজি আর বায়োকেমিস্ট্রি। এই তিনটি বিষয়ের উপর ক্লাস গুলো টিউটোরিয়াল,ব্যবহারিক, লেকচারে ভাগ করা থাকে।
লেকচার সাধারণত এক ঘণ্টার ক্লাস। এসব ক্লাসে প্রতিটা বিষয়ের মূল অংশ গুলো পড়ানো হয়।প্রফেশনাল পরীক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন টপিক আলোচনা করা হয়। একারনে এই লেকচার ক্লাস গুলো ভালো ভাবে করা অত্যন্ত প্রয়োজন।কেবল প্রফেশনাল পরীক্ষা নয়।বরং যেকোন পরীক্ষায় শিক্ষকেরা এই লেকচার থেকে প্রশ্ন করতে পছন্দ করে।কেবল পরীক্ষায় ভালো করার জন্য না বরং বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়ার জন্যেও এই লেকচার ক্লাস গুলোর বেশ গুরুত্ব রয়েছে।
এখন আসি টিউটোরিয়াল ক্লাসে। টিউটোরিয়াল ক্লাস গুলো সাধারণত দুই-আড়াই ঘণ্টার মত হয়ে থাকে।এসব ক্লাসে বিভিন্ন টপিক সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এবং “আইটেম” নামক যে বিশেষ পরীক্ষার সম্মুখীন হবে সে আইটেম এই টিউটোরিয়াল ক্লাসেই নেওয়া হয়।টিউটোরিয়াল ক্লাস গুলো হয় বিভিন্ন গ্রুপে। সকল শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা হয়।তাই টিউটোরিয়াল ক্লাস গুলোতে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ সহজ হয়। আবার শিক্ষকেরাও সব শিক্ষার্থীর প্রতি সমান নজর দিতে পারেন।

স্কুল-কলেজের ব্যবহারিক ক্লাসের মত মেডিকেলেও ব্যবহারিক ক্লাস থাকে, তবে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে কেবল ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিষয়ের জন্য।তাহলে এনাটমির জন্য ব্যবহারিক থাকে না? ব্যাপারটা তা না। এনাটমির ক্ষেত্রে ডিসেকশন ক্লাস হয়। সাধারনত সপ্তাহে একদিন ফিজিওলজি ও একদিন বায়োকেমিস্ট্রি ক্লাস হয়ে থাকে। এইসব ক্লাসের মজার দিক কোনটি জানো? এতদিন হাসপাতালে গেলেই যে বেশ কিছু টেস্ট করাতে দিত যার রিপোর্ট গুলো্য কেবল সংখ্যা নাহয় বিতিকিচ্ছিরি গ্রাফ থাকত? ব্লাড টেস্ট, ইউরিন টেস্ট, ইসিজি ইত্যাদি ইত্যাদি।এই পরীক্ষা গুলো কিভাবে করা হয় তাই মূলত শেখানো হয় এই ব্যবহারিক ক্লাস গুলোয়।শুধু যে শিখতে পারবে, জানতে পারবে তাই না।বরং নিজেরাও তা করতে পারবে।
পরিক্ষা
এবার আসি পরীক্ষা সম্পর্কে। নিশ্চয়ই তোমরা সবাই শুনেছ যে মেডিকেল মানেই পরীক্ষা। আসলেই তাই। দেখবে ক্লাস শুরু হতে না হতেই কোন এক পরীক্ষার নোটিশ পেয়ে গিয়েছ।তো এই পরীক্ষাগুলোর আবার বেশ আকর্ষণীয় নাম ও ধাপ আছে এবং একটা ধাপের পরীক্ষায় পাশ করলেই কেবল পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় বসতে পারবে।

পরীক্ষাগুলো কে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করা হয়-
আইটেম> কার্ড> টার্ম> প্রফ (প্রফেশনাল পরীক্ষা)।

আইটেম হল সবচেয়ে ছোট পরীক্ষা। হয়তো প্রথম সপ্তাহেই বলবে- পরের সপ্তাহে তোমাদের এই টপিকের উপর আইটেম।আইটেম টা আসলে কি?মূলত বিভিন্ন বিষয়গুলো বোঝা ও পড়ার সুবিধার্থে বইয়ের বিভিন্ন চ্যাপ্টারকে বেশ কয়েকটা ছোট ছোট টপিক বা আইটেমে ভাগ করা হয়।ক্লাসে পড়ানোও হয় এই টপিক গুলো থেকে।তারপর এইগুলোর উপর দশ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষা হয়। একদিনে এক থেকে একাধিক আইটেম থাকতে পারে। শুধু তাই না একই দিনে একাধিক বিষয়ের উপরেও আইটেম থাকতে পারে। এই আইটেমগুলোর টপিক যেহেতু খুব কম থাকে আবার তাই আইটেমের আগেই মূল বই ভালো করে পড়া, লেকচার পড়ে বুঝলে অনেক সহজ হয়য়।
কার্ড আরেকটু বড় ধরনের ৫০ মার্কের পরীক্ষা। একেকটা কার্ডে বেশ কয়েকটা আইটেম থাকে। কেবল সব আইটেম ক্লিয়ার থাকলেই কার্ড পরীক্ষা দিতে পারবে।
টার্ম-এই পরীক্ষাটা আসলে প্রফেশনাল পরীক্ষার মতই হয়। দুইটা কার্ডের পর একটা টার্ম হয়। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার আগে প্রতি বিষয়ে ৩টি করে মোট ৯টি টার্ম হয়।টার্মে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক তিন ধরনের পরীক্ষা হয়ে থাকে।
প্রফেশনাল পরীক্ষা- মেডিকেলের পুরো ৫বছরের কোর্সে প্রফেশনাল পরীক্ষা মোট চারটি। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা হয় প্রায় আঠারো মাস পর। অর্থাৎ পরবর্তী বছরের মে মাসে। এই পরীক্ষাও লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক সহ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত থাকে।

এনাটমির এনোর্মাস দুনিয়া

এনাটমি কি? এনাটমি হলো বিভিন্ন জীবের বিভিন্ন অঙ্গ পরিচিতি এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা।এনাটমির ক্ষেত্রে টিউটোরিয়াল ক্লাস হয় না। হয় ডিসেকশন ক্লাস। এইটা আবার কোন ধরনের ক্লাস?
এনাটমি কেবল বইয়ে পড়লেই হয় না। দেখে দেখে শিখতে হয়। এই দেখা ও শেখার বিশেষ ক্লাস হলো এই ডিসেকশন ক্লাস।
আমাদের দেশের মেডিকেল গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে ক্যাডাভার দেখে শেখার সুযোগ রয়েছে। ক্যাডাভার হলো সংরক্ষিত মৃতদেহ। আমাদের এক শিক্ষক বলেছিলেন, “ক্যাডাভার হলো মৃত শিক্ষক যারা আমাদের মত জীবিতদের শিক্ষা দেয়।”
এনাটমির বিস্তৃতি এত বেশি যে অনেক সময় মনে হবে কোন এক বিশাল সমুদ্রে পড়ে গিয়েছ। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সিনিয়রদের কাছে শরণাপন্ন হলে বেশ সাহায্য পাওয়া যায়।

ডেমো,পেন্ডিং,সাপ্লি – এ আবার কোন অদ্ভূত শব্দ

এগুলো আবার কি? এই প্রশ্ন আমার মাথায়ও ঘুরতো এবং বুঝতে বেশ সময় লেগেছিল।
ডেমো হলো ডেমোন্সট্রেশনের সংক্ষিপ্ত রূপ।এনাটমি তে যেহেতু অনেক ভিসেরা যা  দেখে দেখে পড়তে হয়। শিক্ষকেরা একবার পড়ালেও বারবার দেখতে হয়, পড়তে হয়। এসময় কিছু সুহৃদয়বান ব্যক্তি এই বিষয় গুলো অন্যদের সুবিধার্থে পুনরায় ডেমোন্সট্রেট করে। এইটাই ডেমো।এটার একটা বিশাল সুবিধা আছে। আমাদের পরীক্ষার একটা বড় অংশ হল মৌখিক পরীক্ষা। তো যারা বলে অর্থাৎ ডেমোন্সট্রেট করে তাদের অনুশীলন হয়। আর যারা শুনে তারাও আরো ভালো ধারণা লাভ করতে পারে।
পেন্ডিং। মনে আছে প্রথম প্রথম এই শব্দটা ভীষণ ভয় লাগতো। আমাদের যে আইটেম হয় সেই আইটেমে ভালো করতে না পারলে তার নাম্বার পেন্ডিং রেখে তাকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হয়।এইটা স্কুলে থাকতে পড়া না পারলে যেমন বলতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়া মুখস্থ করে দাও।ব্যাপারটা অনেকটা একইরকম।
সাপ্লি হলো সাপ্লিমেন্টারির সংক্ষিপ্ত রূপ।এই আরেকটা শব্দ যা প্রচন্ড ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করেছিল। আসলে ব্যাপারটা ততটাও ভীতিকর না। সবসময় সব পরীক্ষার জন্য একইরকম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় প্রস্তুতি ভালো হলেও পরীক্ষা ভালো হয়না। আবার অসুস্থতার ভয় তো আছেই। এরকম কোনো ক্ষেত্রে কোন পরবর্তীতে যে পরীক্ষা সেটাই হলো সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা। 
মেডিকেলে কোনো পরীক্ষা খারাপ হলে পুনরায় তা দেওয়ার সুযোগ থাকে। এটা মেডিকেল জীবনের অংশ। তাই এই শব্দগুলোকে আমার মত ভয় পাবার কোন কারণ নেই।

লাইব্রেরি

প্রত্যেক মেডিকেল কলেজেই লাইব্রেরি থাকে। যা যেকোনো জ্ঞান-পিপাসু শিক্ষার্থীর জন্য স্বর্গ। মেডিকেল বিষয়ক যেকোন বই পাওয়া যাবে লাইব্রেরিতে। লাইব্রেরিতে বসে পড়ার ও লাইব্রেরি থেকে বই বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগও আছে। এছাড়া শিক্ষার্থীর পড়ালেখার জন্য সহায়ক যেকোনো নোট, প্রশ্ন পাওয়া যায় লাইব্রেরিতে।
enam-medical-college-library.jpg

ক্যান্টিন

ক্যাম্পাস জীবন নিয়ে লিখতে গেলে ক্যান্টিন নিয়ে না লিখলে লেখাটা অপূর্ণ থেকে যায়। ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত পাওয়া যায়। অনেকেই এখানেই কলেজ ক্যান্টিন থেকেই দুপুর ও রাতের খাবার কিনে থাকে। আবার অন্যান্য সব ক্যান্টিনের মতই এই জায়গাটাও হয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের গল্পগুজবের প্রাণকেন্দ্র।

রিডিং রুম

শিক্ষার্থীদের নিরিবিলি পড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটা রিডিং রুম থাকে। রিডিং রুম গুলো সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকে।
     

একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব।কিন্তু কিভাবে?
64-646697_life-study-balance.png
মেডিকেলের একাডেমিক সময়টা অনেক লম্বা। শুধু তাই নয়, অনেক বেশি জটিলও। পড়ালেখা ও পরীক্ষার মাঝে অনেকেই নিজেদের হারিয়ে ফেলে। তাই এই জটিল শিক্ষাব্যবস্থায় অবশ্যই প্রয়োজন নিজস্ব রুটিন মেনে চলা। সাধারণত মেডিকেলে এরকম হয় যে এক সপ্তাহের প্রতিদিনই পরীক্ষা, আবার আরেক সপ্তাহ পুরোটাই অলস সময়। এরকম ব্যবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আগেই তৈরি করতে হবে।প্রতিদিন যা পড়ানো হবে তা সেদিনই রিভিউ করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে পরবর্তীতে কিছুটা বিরতিতেও পড়ালেখার ক্ষতি হবে না আবার অযথা চিন্তায় হতাশও হতে হবে না।

মেডিকেলের রঙহীন দুনিয়ায় কিছু রঙিন সময়

ক্লাস পরীক্ষার কথা তো অনেক হলো।
মেডিকেলে কি কেবল পড়াই হবে? ঘোরাঘুরি, আনন্দ করার কি আসলেই সময় নেই?
আসলে ব্যাপারটা তা না।
মেডিকেলে যারা পড়ে তারা যে সবসময় বইয়ে মুখ গুজে থাকা তা কিন্তু একদমই সত্য না। এখানেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। খেলাধুলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতা তো লেগেই আছে।
যেকোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্যণীয় অংশ কি? অনেক সংখ্যক ও অনন্য ক্লাব।ডিবেটিং ক্লাব, কুইজ ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া মেডিকেলে এক বিশেষ ধরনের ক্লাব আছে যেটা রক্তদান কর্মসূচীর সাথে জড়িত।
সারা বছরই এই ক্লাবগুলো কোনো না কোনো প্রতিযোগীতা, কর্মশালা, সেমিনারের আয়োজন করে থাকে।ক্লাব গুলোর রয়েছে বহুর্মুখী সুবিধা। প্রথমত নিরানন্দ মেডিকেল জীবনে একটু প্রশান্তি।এছাড়া নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঠিক।তবে আরেকটা বিষয় আছে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারা। ক্লাবে যুক্ত থাকলে এই ব্যাপারটা সহজেই আয়ত্ত্ব করা যায়।

হোস্টেল জীবন


সাধারনত সব মেডিকেল কলেজেই শিক্ষার্থীর জন্য হলে সিট বরাদ্দ থাকে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে কিছু ব্যতিক্রম হতে পারে।তোমাদের অনেকেই হয়ত প্রথমবারের মত হলে থাকতে যাবে। একারনে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে অবশ্যই।
আমাদের হল গুলোতে এক রুমে একাধিক শিক্ষার্থীর থাকা প্রয়োজন হয়। অনেক সময় জায়গার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে রুমমেটদের আলোচনা করে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস যা যা লাগবে তাই নিতে হবে। প্রত্যেক হলের কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন থাকে। এই নিয়ম গুলো মেনে চলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা লাগবে।
যেহেতু হলে অনেকের সাথে একসাথে থাকা লাগে সেহেতু অনেক সময়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে পার। এসময় সহমর্মিতা, পারস্পারিক সম্মানবোধ বজায় রেখে আলোচনার সাপেক্ষে যেকোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আবার এই হলেই অনেকে পেয়ে যেতে পারো ক্যাম্পাসে তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুটিকে।

ম তে মেডিকেল ম তে মুখস্থ

মেডিকেল শিক্ষাকে অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলে যে মুখস্থবিদ্যায় যে কেউ মেডিকেল পাশ করতে পারবে। মেডিকেল যতটুকু বোঝার বিষয়, মুখস্ত করার বিষয় হয়তো তার তুলনায় বেশি। কিন্তু যেকোন বিষয়ে গভীর ধারনা অর্জন করতে হলে কেবল মুখস্ত করলেই চলে না বরং ভালোভাবে বুঝতেও হয়। তাই মেডিকেল মানেই যে মুখস্থবিদ্যা বই কিছুই নয় ব্যাপারটা কিন্তু একদমই সঠিক নয়।
এজন্য মূল বই ভালো করে পড়তে হবে।ক্লাসে মনোযোগী হতে হবে।

লক্ষণীয় বিষয়সমূহ

  • ক্যাম্পাসে পা দেওয়ার পর প্রথম কাজ হবে ডিপার্টমেন্ট গুলো খুঁজে বের করা। আমাদের দুই ক্লাসের মধ্যে কোনো বিরতি থাকে না সাধারণত।তাই কোন ডিপার্ট্মেন্ট গুলো কোথায় তা জেনে রাখতে হবে।লেকচার ক্লাস, টিউটোরিয়াল, ব্যবহারিক, ডিসেকশন, মিউজিয়াম কোথায় জেনে রাখতে হবে।
  • প্রতিটা মেডিকেল কলেজের পাশেই সাধারণত মেডিকেল থাকে। তাই হাসপাতালের কোথায় কোন ডাক্তার বসে, কোন ডিপার্টমেন্ট কোথায়, হঠাত অসুস্থ হয়ে গেলে কোথায় যেতে হবে এ সম্পর্কে ধারনা নিয়ে রাখতে হবে।
  • আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের অধিকাংশ সময় কেটে যাবে এনাটমির ডিসেকশন রুমে।তাই ডিসেকশন রুমের নিয়ম-নীতি মেনে চলাটা অত্যন্ত জরুরি।
  • মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কেবল পরিশ্রমী ও পড়ুয়া হলেই হয় না, বরং সহমর্মিতা ও বিনয়ও শিক্ষার্থী হওয়ার  যোগ্যতা। একারনে অবশ্যই এই গুণগুলো চর্চা করতে হবে।

মেডিকেলে ভর্তির (medical admission) পর থেকে ইন্টার্নশীপের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছরে এই কারিকুলাম অনুসরণ করা একটা ম্যারাথনে দৌড়ানোর মত। যেখানে ক্লান্তি, অবসাদ, ব্যস্ততা, হতাশার মাঝেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। এখানকার জীবনটা একেবারেই যে সাদাকালো তা নয়। বরং এই জীবনের রঙ খুঁজে নিতে হয়।তবেই ছাত্রাবস্থায় এই সময়টাকে আনন্দদায়ক ও অর্থবহ করা সম্ভব হবে।
মেডিকেল ভর্তি (medical admission) সংক্রান্ত যেকোনো সাহায্য পাবে Tickright এ।