অসীম সিলেবাস বনাম সীমাবদ্ধ সময়: মেডিকেল কলেজের ভর্তি যুদ্ধ

মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষার পূর্ববর্তী সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে যে সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

 সাদা এপ্রোন কেবল একটি পোশাক নয় বরং একটা স্বপ্ন।এই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।এই ধাপের সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো সময়। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সময় অনেক কম কিন্তু সিলেবাস বিশাল।আবার অনেকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন যে, পড়ছো অনেক বেশি কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ নয়।

এত চেষ্টা-পরিশ্রমের পরেও যখন বুঝতে পারছো না ঘাটতি কিসে তাহলে হয়তো সমস্যাটা তোমার  পাঠ-পরিকল্পনায়।সঠিক পরিকল্পনার অভাবে যদি ভালো ফল হাতছাড়া হয় তবে তার চেয়ে বড় আফসোসের বিষয় আর কোনটিই হবে না। তাই বলে কি ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে? তা তো সম্ভব নয়, তাই না?একারণে প্রস্তুতির জন্য সময়টুকুকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখলে প্রস্তুতি যেমন একদিক দিয়ে সমাপ্ত হবে আবার অন্যদিকে তোমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিন বিষয়ের ছয় বই!!!        

প্রথমেই জানতে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কয়টি বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয় এবং বিষয়গুলোর প্রতিটি চ্যাপ্টার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।সিলেবাস অনুসারে পাঁচটি বিষয়ের উপর যোগ্যতা যাচাই করা হয়। জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান।
         

জীববিজ্ঞান,পদার্থবিজ্ঞান,রসায়নের চ্যাপ্টার সংখ্যা এবং কোন চ্যাপ্টার কত বড় এবং কি আলোচনা করা হয়েছে সে সম্পর্কে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখতে হবে।তাহলে কোন চ্যাপ্টারে কতটুকু সময় ব্যয় করবে, একদিনে কতটুকু টপিক শেষ করতে পারবে এসম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা থাকবে। সিলেবাস সম্পর্কে ধারণার অভাব শেষ মুহূর্তে গিয়ে চিন্তার উদ্রেক ঘটাবে।
         

কোন বিষয় কিভাবে পড়তে হবে,কোন টপিকগুলো আগে পড়তে হবে এসম্পর্কে জানতে পারবে tick right এর অন্য ব্লগগুলো থেকে।

ফিজিক্স,কেমিস্ট্রি,বায়োলজির ভিড়ে সাধারণ জ্ঞান-ইংরেজির জন্য সময় কই?      

“পদার্থবিজ্ঞান,জীববিজ্ঞান,রসায়ন তো আগে পড়েছি কিন্তু সাধারণ জ্ঞান নিইয়ে কি করবো?”

জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান,রসায়ন ও ইংরেজি সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলেও সাধারণ জ্ঞান সম্পূর্ণ নতুন। সাধারণ জ্ঞানের বিস্তার এত বেশি যে কোথা থেকে কি পড়বো, কিভাবে পড়বো এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত যেমনটা আমিও ছিলাম।আবার ইংরেজিও স্কুল বা কলেজের সিলেবাস থেকে একটু ভিন্ন।তবে ভয় পাবার কোন কারণ নেই। এই সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি কোথা থেকে কিভাবে পড়বে এবং সহজে এই দুই তার ধারণা নিতে কিছু সময় ব্যয় করে এ সম্পর্কিত ব্লগটি পড়ার অনুরোধ করবো।

দুই-এর নীতি     

রসায়নের দুই-এর নীতির কথা মনে আছে?আমিও এখন দুই এর নীতির কথা বলবো।অবশ্য আমার দুই এর নীতি আর রসায়নের দুই এর নীতির মাঝে বিস্তর ফারাক বিদ্যমান।

এখন বলি এই দুই এর নীতি টা কি।প্রতিদিন অন্তত দুটি বিষয় পড়তে হবে।এই দুটি বিষয়ের একটি আবার সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি থেকে যেকোন একটি হতে হবে।কারণ প্রতিদিন সাধারণ জ্ঞান বা ইংরেজি না পড়লে সিলেবাসের অনেকাংশ বাকি থেকে যাবে।পরবর্তীতে একসাথে এত কিছু পড়া কষ্টকর হবে।

দুই ঘণ্টা টার্গেট নিয়ে পড়াটা অত্যন্ত কার্যকর বলে আমি মনে করি।এই দুই ঘণ্টায় কতটুকু পড়তে চাও এবং কতটুকু পড়তে পেরেছ সে হিসাব রাখা প্রয়োজন।
এই দুই এর নীতির তাৎপর্য এখানেই যে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ বজায় রাখতে পারবে এবং যাই পড়ছো না কেন সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ ধারণা অর্জন করতে পারবে। একইসাথে একঘেয়েমিতা দূর হবে।

সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে না?    

এক্ষেত্রে নিজের একটা ডায়েরি মেইনটেইন করা অত্যন্ত ফলদায়ক হবে। তবে ডায়েরির পরিবর্তে ক্যালেন্ডারও ব্যবহার করা যেতে পারে।ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করি।মনে করো আজকে তোমার পরিকল্পনা হলো প্রাণিবিজ্ঞানের প্রথম চ্যাপ্টার ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পড়া।এই দুইটা টপিকের নাম ডায়েরিতে লিখে রাখলে।দিনশেষে তোমার যতটুকু অংশ পড়া হয়নি তা লিখে রাখলে।কিংবা যদি ঐ চ্যাপ্টার সম্পর্কিত এমসিকিউ প্র্যাকটিস না করা হয়ে থাকে তাহলে তা লিখে রাখলে।তাহলে পরেরদিনের নির্ধারিত পড়া শেষ করে তুমি ঐ অংশটুকু পড়তে পারবে।নয়তো পরবর্তীতে রিভিশনের সময় বাদ যাওয়া টপিকের কারণেই ভীতির সৃষ্টি হবে।আবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের উপর যে পরীক্ষাগুলো হয় তাতেও দেখা যাবে ওই টপিকগুলো থেকে আসা প্রশ্ন বেশি ভুল হচ্ছে।     

আবার কিছু টপিক থাকে যা অত্যন্ত কঠিন মনে হয়।বারবার পড়লেও মনে হয়-এটা পড়া আমার পক্ষে সম্ভব না।সেইসব টপিক ডায়েরি বা খাতায় লিখে রাখলে।প্রতিদিন পড়া শুরুর আগে ঐ অংশটুকু একবার কেবল চোখ বুলিয়ে নিলেই দেখবে কিভাবে কিভাবে যেন তা মুখস্থ হয়ে গিয়েছে।     

প্রতিদিন কতগুলো ইংরেজি বা সাধারণ জ্ঞান পড়া হচ্ছে তার একটা ট্র্যাক রাখা প্রয়োজন।কারণ দুটির জন্য জীববিজ্ঞান,পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের মত কোন নির্ধারিত মূল বই নেই।     

ডায়েরি বা নোটখাতা মেইনটেইন করার মূল উদ্দেশ্য এইটাই যে আমরা যেন সিলেবাসের বিশালতায় হারিয়ে না যাই এবং একই সাথে সব বিষয় যেন সমান গুরুত্ব দিয়ে ভালোভাবে পড়তে পারি।

প্র্যাকটিস প্র্যাকটিস প্র্যাকটিস!!!      

একজন স্যারের একটা উক্তি আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেছিলেন- “ভুলে গেলে ভয় পাবেন না।আবার পড়বেন।মানুষ পড়েই ভুলে যাওয়ার জন্য।সব মনে রাখা সম্ভব না।তাই ভয় না পেয়ে বারবার পড়েন।” হয়তো তোমরা এই অংশটা পড়ে একটু অস্বস্তি বোধ করছো। কিন্তু এই বিশ্বাসই আমাকে একই জিনিস বারবার পড়তে ও অনুশীলন করতে সাহায্য করেছিল।
     

এখন আসি প্র্যাকটিসের ব্যাপারে।দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় এমসিকিউ সলভ করার জন্য রাখতে হবে।প্রতিদিন অন্তত প্রশ্নব্যাংকের একটা প্রশ্ন (১০০ টা এমসিকিউ) সলভ করতে হবে।তবে যত বেশি করবে তত বেশি লাভ। শুধু প্র্যাকটিস করলেই হবে না, এগুলো থেকে তোমার ভুলগুলো খুঁজে বের করতে হবে নিজেকেই।
তবে এই Tick right থেকেই তোমরা এমসিকিউ প্র্যাকটিসের বেশ ভালো সুযোগ পাচ্ছ।

স্বমূল্যায়ন পদ্ধতিঃ পরীক্ষার্থী যে নিরীক্ষক সে      

কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা,হোম টিউটরের পরীক্ষা,অনলাইন পরীক্ষা তো চলতেই থাকে।তবে বাসায় কিছু প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রতিদিন অনুশীলন করতেই হবে।কিন্তু এই যে প্রশ্নগুলো অনুশীলন করছো-এই প্রশ্নগুলো নিরীক্ষা করার কাজটাও তোমাকে করতে হবে।তবেই তুমি বুঝতে পারবে কোথায় তোমার ভুল হলো আর কেনই বা হলো।একই সাথে প্রশ্নগুলো আরো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে।আগের প্রশ্নের সাথে এই প্রশ্নের তুলনা করে মূল্যায়ন করতে পারবে নিজেকেই।

নামটা যখন র‍্যাঙ্কের নিচের দিকে তখন কি চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?    

দু’বছর আগে যখন আমি মেডিকেল ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন এত বড় সিলেবাস ও চাপের মাঝে সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল কোচিং এর পরীক্ষাগুলোর নাম্বার আর র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা।কেউ কেউ হয়তো এর পক্ষে তবে তখন র‍্যাঙ্কিং সিস্টেমের উপর যে বিতৃষ্ণা জন্মেছিল তা আর নাই বা বলি!!যাই হোক,ধীরে ধীরে পরে যা বুঝতে পেরেছিলাম তা হলো- যে নিয়মিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয় সেগুলোতে কেমন নাম্বার পেলাম এটার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কি কি ভুল হলো। পরীক্ষা দেওয়া বা ফলাফল পাওয়ার পরপরই উত্তরগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে ভুল শুধরে নিতে হবে।এখন আসি আরেকটা ব্যাপার নিয়ে-একেকটা এমসিকিউ প্রশ্নে চারটি অপশন থাকে।এর মধ্যে কেবল একটি সঠিক বাকি তিনটি ভুল থাকে।এই তিনটি ভুলের উত্তরের সঠি্ক উত্তরটি প্রশ্নেই পাশে লিখে ফেলতে হবে।অর্থাৎ পরীক্ষা দেওয়ার পরেও ঐ একই প্রশ্নে তোমার প্রায় আরো আধাঘণ্টার মত সময় ব্যয় করতে হবে।তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এত কষ্ট করে পরীক্ষা দেওয়ার পর একই প্রশ্নে আরো আধা ঘণ্টা কেন নষ্ট করবো? কারণ এরপর যখন এই প্রশ্নগুলো রিভাইস করবে তখন প্রতিটা প্রশ্নের সাথে আরো তিনটা অতিরিক্ত এমসিকিউ পড়া হবে।
       

এই পরীক্ষাগুলো যে তোমার মূল পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করবে তা না।তবে এই পরীক্ষাগুলো তোমার জন্য মার্কার; যার মাধ্যমে তুমি মার্ক করতে পারবা কোন অংশগুলোতে তোমার জোর দিতে হবে, কোন অংশগুলো বারবার পড়তে হবে।
       

তাই কোন পরীক্ষার নাম্বার বা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে মোটেই হতাশ হবে না।এ পরীক্ষাগুলোতে  তোমার অংশগ্রহণ র‍্যাঙ্কে উপরে থাকার জন্য নয়  বরং নিজের দূর্বলতার জায়গাটুকু খুঁজে বের করাটা।

রিভিশন পর্ব      

রিভিশনের জন্য খুব কম সময় থাকে।দেখা যায় যে সিলেবাস শেষ করতে করতেই দুই মাস অতিবাহিত হয়ে যায়।পরীক্ষার আগের এই কয়েকটা দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বারবার বিষয়গুলো পড়তে হয়, আগের ভুলগুলো বের করে আবার পড়তে হয়, এমসিকিউ সলভ করতে হবে।অনেক ব্যস্ততা! আসলে এই সময়ে পড়ার সময়টা কমে যায়।কিভাবে?আগে একটা চ্যাপ্টার পড়তে একদিন লাগলেও এই পর্বে এসে দেখবে সেটা এক ঘণ্টাতেই হয়তো পড়া হয়ে যাচ্ছে। তাহলে একই দিনে অধিক বিষয় পড়তে পারবে আবার বেশি বেশি এমসিকিউও সলভ করতে পারবে।
       

এই রিভিশন পর্বের একটা অভিজ্ঞতা তোমাদের সাথে শেয়ার করি।এই ধাপের পুরোটা সময়ের মধ্যে এই অংশে এসে একসাথে একগাদা নেতিবাচক চিন্তা এসে ভিড় করেছিল।শেষের এই সময়টতেই বিভিন্ন ধরনের আশঙ্কা, ভয়, চিন্তা, অস্থিরতা কাজ করছিল।কিন্তু আফসোস! এই অবস্থা না তুমি কাউকে বুঝাতে পারবে, না কেউ বুঝতে চাইবে।তাই হাল ছেড়ো না।এই সময়টুকুর পরেই তোমার কাঙ্খিত দিন ও কাঙ্খিত পরীক্ষা যার জন্য এত পরিশ্রম।

পড়াশোনা নাকি ঘুম?      

আসলে দুটোই!
 আমিও যখন তোমাদের মত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন বেশিরভাগ মানুষই বলতো বেশি যেন না ঘুমাই, চার ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট। এ ব্যাপারে আমার একটু ভিন্ন মত আছে।প্রথম কথা স্বাভাবিক ও ভালো ঘুম যেটাকে ইংরেজিতে sound sleep বলে তা আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শুধু তাই না মনোযোগ বৃদ্ধি করতে, দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ বজায় রাখতে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভালো ঘুম খুব বেশি প্রয়োজন।একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস থাকা জরুরি।অনেকে বলবে রাতে না ঘুমিয়ে দিনে বেশিক্ষণ ঘুমালে কি চল্বে?উত্তর হলো না। কারণ এইখানে যে ব্যাপারটা আমি হাইলাইট করতে চাই সেটা বেশি সময়ের ঘুম না বরং ভালো ঘুম সেটা চার ঘন্টারই হোক বা ছয়-আট ঘণ্টারই হোক। দিনের অতিরিক্ত ঘুম সাধারণত মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।সেই সাথে মানসিক সুস্থতাও বাধাগ্রস্ত হয়।
তাই ঘুমের জন্য দৈনিক ছয়-আট ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে বাকি সময়টুকুকে পড়ালেখার বিষয়ের জন্য ভাগ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

মানসিক সুস্থতাঃ ব্যয়াম বা বিনোদন      

ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ প্রভাব ফেলে নিজেকে প্রতিনিয়ত একটা জায়গায় একই পরিবেশে নিজেকে আবদ্ধ রাখা।প্রথমত জীবনের এত বড় একটা সিদ্ধান্ত কেবল এক ঘণ্টার একটা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যেখানে প্রতিযোগীদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।একারনেই আমি মনে করি এ সময়টাতে সারাদিন পড়ালেখা,ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ব্যতীত হালকা ব্যয়াম বা বিনোদন বা খেলাধুলা করা অনেক বেশি কাজে দিবে। অবশ্যই সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

নিজের প্রতিদ্বন্দী তুমি নিজেই 

প্রতিযোগীতায় জয়ের চিন্তায় আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় ভুলে যাই যে আমাদের প্রতিযোগীতা কেবল আমাদের নিজেদের সাথেই।আর অন্যের সাথে নিজেকে ক্রমাগত তুলনা করে হতাশ হই।তুমি গতকাল যে মার্ক পেয়েছ সেখান থেকে ভুল গুলো শুধরে আজকে কেমন মার্ক পেয়েছ এই হবে তোমার প্রতিযোগীতা। প্রতিনিয়ত নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে হতাশ হবে না এই আমার অনুরোধ। সময়টা কম ঠিক। তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তুমিও তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

 মেডিকেলে পুরো যাত্রাটাকে একটা ম্যারাথন রেসের সাথে তুলনা করা হয়।আমি মনে করি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্বটাও একটা ম্যারাথন। টানা তিন মাস এই প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে হলে তোমাকে একটা ধ্রুব গতি বজায় রাখতে হবে।কারণ স্প্রিন্টের মত দ্রুত দৌড়িয়ে এই লম্বা যাত্রা পাড়ি দেওয়াটা কষ্টকর হবে।প্রতিদিনকার নির্ধারিত পড়াটুকু শেষ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
 তোমাদের সবারই হয়তো পড়ালেখা করার নিজস্ব প্যাটার্ন আছে।তবে এই ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত বর্ণিত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে নিজের সময়টাকে সুবিধামত ভাগ করে নেওয়াটা ভালো প্রস্তুতি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরনে অত্যন্ত প্রয়োজন।